ম্যাঞ্চেস্টার: তেন্ডুলকর-অ্য়ান্ডারসন ট্রফিতে বল হাতে প্রত্যেক ম্য়াচেই ধারাবাহিকভাবে খেলে যাচ্ছেন মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj)। এখনও পর্যন্ত চলতি সিরিজে তিনটি টেস্টে ১৩ উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন ডানহাতি পেসার। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০৯ ওভার বলও করে ফেলেছেন সিরাজ। একদিকে যেখানে বুমরার ওয়ার্কলোড ম্য়ানেজমেন্ট বড় মাথাব্যথা টিম ম্য়ানেজমেন্টের। একদিকে যেমন আকাশ দীপের চোট চিন্তা বাড়িয়েছে দলের, সেখানে সিরাজের ওয়ার্কলোড নিয়ে কখনও মাথা ঘামাতে হয়নি টিম ম্য়ানেজমেন্টের।
চতুর্থ টেস্টের আগের দিন সিরাজ সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ''এর পেছনে লুকনোর কিছু নেই। দেশের জন্য যখন খেলতে নামি তখন এর থেকে বড় মোটিভেশন আর কিছু নেই। দেশের জার্সিতে খেলা আমাকে বাড়তি উদ্বুদ্ধ করে সবসময়। আমার একটাই লক্ষ্য থাকে, যাতে আমি মাঠে নিজের ১০০ শতাংশ দিতে পারি। যাতে রাতে শান্তির ঘুম দিতে পারি। আমার মধ্যে যেন এমনটা না হয় যে আমি এটা করতে পারতাম, আমার এটা করা উচিৎ নয়, এমনটা যেন মনে না হয়। ফল যাই হোক না কেন, আমার পারফরম্যান্সে যেন কোনও খামতি না থাকে, এটাই মাথায় থাকে আমার।''
জসপ্রীত বুমরা চলতি টেস্ট সিরিজে দুটো ম্য়াচ খেলেছেন। লিডস ও লর্ডসে তিনি খেলেছেন। ম্য়াঞ্চেস্টারেও তারকা পেসারকে দেখা যেতে পারে। কিন্তু সিরাজ তাঁর নিজের ওয়ার্কলোড নিয়ে ভাবছেনই না। আইপিএলে গুজরাত টাইটান্সের পেসার বলেন, ''আমি নিজেকে সবসময় বলি যে যদি উইকেট না পাই, তাহলেও ম্য়াচ থেকে হারিয়ে যেতে দেব না নিজেকে। আমি জানি ভগবান আমাকে সবসময় দেখছেন। আমার পরিশ্রমের ফল নিশ্চই আমি পাব, এই আশাই রাখি সব ম্য়াচে আমি। উইকেট না পেলেও নিজের কাজটা নিঁখুতভাবে করতে চাই আমি।''
লর্ডসে ২২ রানে ম্য়াচ হারতে হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলকে। শেষ মুহূর্তে পর্যন্ত জাডেজার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু শোয়েব বসিরের বলে বোল্ড হতেই ভারতের হার নিশ্চিত হয়ে যায়। সিরাজ বলছেন, ''আমি যখন ব্যাটিং করছিলাম, মন হচ্ছিল যে আমি আউট হব না। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে যদি আমি আউট হই, তাহলে আমি নিজের ভুলেই আউট হব। আমার কাছে ভীষণ হতাশার ছিল যে আমরা শেষ পর্যন্ত ম্য়াচটা জিততে পারিনি।''
টেস্ট সিরিজে এই মুহূর্তে ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে ভারতীয় দল। সিরিজে আরও দুটো ম্য়াচ বাকি।