সাসারাম: বিহার থেকে বাংলা হয়ে বার্মিংহ্যাম। দূরত্ব অনেকটা। কিন্তু সব দূরত্বই ঘুচিয়ে দিয়েছেন তরুণ পেসার আকাশ দীপ। জন্ম বিহারে, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেন বাংলায়, আর দেশের জার্সিতে এজবাস্টনে ইংল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে খেলতে নেমে তুলে নিলেন ১০ উইকেট। আকাশের সাফল্যে বেজায় খুশি ছোটবেলার বন্ধু বৈভব কুমার। তিনি বলছেন, ''ও ছোট থেকেই শৃঙ্খলাবদ্ধ ভীষণভাবে। সময়ের জ্ঞান রয়েছে। প্রতিদিনের রুটিন নিয়ম করে চলে। সবসময় ভাল পারফর্ম করার জন্য মরিয়া থাকে আকাশ। ব্যাট হাতে সুযোগ পেলে তাতেও নিজের জাত চেনাবে ও।''

বার্মিংহ্য়ামে প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট তুলেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন ৬ উইকেট। মোট ১০ উইকেট। ইংল্য়ান্ডের মাটিতে কোনও ম্য়াচে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সেরা পারফরম্য়ান্স এটিই। এর আগে ইংল্য়ান্ডের মাটিতে এক ম্য়াচে টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন একমাত্র চেতন শর্মা। নিজের সাফল্য দিদিকে উৎসর্গ করেছিলেন আকাশ দীপ। ভারতীয় পেসারের ছোটবেলার বন্ধু বলছেন, ''আকাশের দিদির ক্যান্সার রয়েছে। ফার্স্ট স্টেজ ক্যান্সার। লখনউয়ে চিকিৎসা চলছে ওঁর দিদির। মুম্বই থেকে চিকিৎসক এসেছেন। লখনউ টিম ম্য়ানেজমেন্ট ও বাংলা দল আকাশকে অনেক সাহায্য করেছে। এখন ওঁর দিদি ভাল আছেন।''

 

বার্মিংহ্য়ামে এই নিয়ে মােট ৯টি টেস্ট খেলল ভারত। তার মধ্য়ে এটিই প্রথম জয়। এর আগে সাতটি ম্য়াচে হারতে হয়েছে টিম ইন্ডিয়াকে। একটি ম্য়াচ ড্র করেছে তারা। এদিকে, আকাশদীপ যে বলে জো রুটকে আউট করেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জো রুটের মতো ব্যাটারের রক্ষণ ভাঙা যে সহজ নয়, তা সকলেই জানেন। দুরন্ত বল ব্যতীত বর্তমান বিশ্বের সর্বসেরা ব্যাটারদের অন্যতম রুটকে পরাস্ত করা সহজ নয়। আকাশ দীপ ঠিক এমনই এক বলে রুটকে আউট করেন। তাঁর দুরন্ত বল ধারাভাষ্যকারদেরও মন্ত্রমুগ্ধ করে। যদি আম্পায়াররা এই বলকে বৈধ বলেই মনে করেন। তবে অনেক ধারাভাষ্যকার তথা নেটিজেনরা এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এমসিসির নিয়ম অনুযায়ী বোলারের পা সামনের লাইনের মধ্যে তো বটেই, রিটার্ন ক্রিজের মধ্যেও থাকা জরুরি, তবে সেই বল বৈধ হবে। রিটার্ন ক্রিজে বোলারের পা স্পর্শ করলেও কিন্তু তা নো বল হওয়ার কথা। আকাশ দীপের জো রুটকে করা বলটির সময় ফাস্ট বোলারের এক পা রিটার্ন ক্রিজে স্পর্শ করছিল বলে অনেকেই মনে করছেন। আম্পায়াররা এই বিষয়টি চেক করেননি বলে অনেকেই দাবি করেন।