বার্মিংহ্যাম: রোহিত শর্মা টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর যখন গিলকে অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়েছিল, তখন হাজারো প্রশ্ন উঠেছিল। এই ফর্ম্য়াটে গিলের ব্যাটে রানের ক্ষরা চলছিল। যা মূল কারণ ছিল সমালোচনার। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মাটিতে একেবারেই ভাল গড় ছিল না গিলের। কিন্তু ক্যাপ্টেন হিসেবে ইংল্যান্ডে পা রেখেই ব্যাট হাতে শাসন করে চলেছেন। প্রথম টেস্টে ভারত হারলেও গিলের ব্যাট থেকে শতরান এসেছে। দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছেন। মাইকেল ভন মনে করেন ইংল্য়ান্ড সিরিজের শেষে গিলের ব্য়াটিং গড় ৪৫ ছাপিয়ে যাবে।

বার্মিংহ্যামে প্রথম ইনিংসে ২৬৯ রান করার সঙ্গে সঙ্গেই সচিন তেন্ডুলকর, সুনীল গাওস্কর, বিরাট কোহলি, রাহুল দ্রাবিড়, মহম্মদ আজহারউদ্দিনদের টপকে গিয়েছেন গিল। জাডেজার সঙ্গে লোয়ার অর্ডারে ২০৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছিলেন। নিজের ইনিংসে ৩০টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন গিল। 

প্রাক্তন ইংরেজ অধিনায়ক ভন বলছেন, ''শুভমনে মত ব্যাটারের জন্য টেস্টে ৩৫ গড় একেবারেই মানানসই নয়। ও এর থেকে অনেক ভাল প্লেয়ার। আমি মনে করেছিলাম যে তার টেস্ট কেরিয়ারের শেষে ৪৫ গড় ছাপিয়ে যাবে। কিন্তু এখন ইংল্যান্ডে ওর ব্য়াটিং দেখে মনে হচ্ছে যে গিল চলতি ইংল্যান্ড সিরিজের পরই গড় ৪৫ ছুয়ে ফেলবে। ওর ঝুলিতে সবরকমের শট রয়েছে। দুর্দান্ত টেকনিক রয়েছে ওর। লিডস ওপেনার হিসেবে যখন থেকে খেলছিল, তখন থেকে দারুণ খেলেছে। বাকি ম্য়াচগুলোতেও আশা করি গিলের ব্যাটে রান দেখতে পাব।''

শুভমন গিল বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ইতিহাস গড়লেন। তিনি তাঁর টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম দ্বিশতরান করলেন। এর সঙ্গে তিনি সেই কীর্তি গড়লেন যা আগে ভারতের হয়ে কেবল রোহিত শর্মা করেছিলেন। গিল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৬৯ রানের ইনিংস খেলেন। তিনি মাত্র ৩১ রানের জন্য ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে ব্যর্থ হন। গিল এখন একদিনের এবং টেস্ট ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতরান করা দ্বিতীয় ভারতীয় খেলোয়াড় হয়েছেন। রোহিত ভারতের হয়ে একদিনের ক্রিকেটে তিনটি দ্বিশতরান করেছেন। টেস্টে তিনি একটি দ্বিশতরান করেছেন। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ব্যাট থেকে ৫টি সেঞ্চুরি এসেছে।

গিল তাঁর কেরিয়ারে একদিনের আন্তর্জাতিক এবং টেস্টে একটি করে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। এছাড়াও, গিল টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি করেছেন।