ম্যাঞ্চেস্টার: ওল্ড ট্রাফোর্ডে ভারত-ইংল্যান্ডের চতুর্থ টেস্টের (IND vs ENG 4th Test) চতুর্থ দিন তিনি যখন ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন, তখনও ভারতীয় দলের ওপর ইনিংসে পরাজয়ের খাঁড়া ঝুলছে। সদ্য রাহুল ও গিলের ১৮৮ রানের পার্টনারশিপ ভেঙেছে। তবে ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar) যে ইনিংসটা খেলেন, তা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ম্যাঞ্চেস্টারে কেরিয়ারের প্রথম টেস্ট শতরান তো হাঁকালেনই, রবীন্দ্র জাডেজার সঙ্গে মিলে দু'শো রানের অপরাজিত পার্টনারশিপে ভারতীয় দলকে ম্যাচ ড্র করতেও সাহায্য করেন সুন্দর।

এই দুরন্ত এক ইনিংসের পরেই সুন্দরের বাবা অবশ্য ছেলের জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়া নিয়ে ভারতীয় নির্বাচকদের একহাত নিলেন। তিনি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে TOI-কে বলেন, 'ওয়াশিংটন তো ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফর্ম করেছে। তবে লোকজন কেন জানি না ওর পারফরম্যান্সগুলি এড়িয়ে যায়, ভুলে যায়। বাকিরা নিয়মিত সুযোগ পায়, খালি আমার ছেলের বেলাতেই তেমনটা হয় না। যেমন চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে করেছে, তেমনই ওয়াশিংটনের নিয়মিতভাবে পাঁচ নম্বরে ব্যাট করা উচিত এবং অন্তত টানা পাঁচ থেকে দশটি ম্যাচ সুযোগ পাওয়া উচিত ওর। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে তো ওকে দলেই রাখা হয়নি।'

ওয়াশিংটনের বাবার অভিযোগ তাঁর ছেলে এক, দুই ম্য়াচ খারাপ খেললেই তাঁকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। 'আমার ছেলেকে তো এক, দুই ম্যাচ খারাপ খেললেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এটা অনুচিত। আমার ছেলে ২০২১ সালে চেন্নাইয়ে এক স্পিনসহায়ক পিচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অপারিজত ৮৫ ও একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমদাবাদে ৯৬ রানের ইনিংস খেলেছিল। ওই দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেও ওকে দল থেকে বাদ পড়তে হত। আর কোনও ভারতীয় ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে কি এমনটা হয়? এইসব ঘটনার পর ও আরও শক্ত হয়ে নিজেকে তৈরি করেছে এবং তার ফল গোটা বিশ্ববাসী আজ দেখতে পাচ্ছে।' দাবি তাঁর। 

ওয়াশিংটন ২০১৭ সালে টিনএজার হিসাবে ভারতীয় দলের হয়ে অভিষেক ঘটান। তবে ২৫ বছর বয়সি ভারতীয় ক্রিকেটার এখনও পর্যন্ত মাত্র ১২টি টেস্ট, ২৩টি ওয়ান ডে এবং ৫৪টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্য়াচই খেলেছেন। শুধু জাতীয় নির্বাচক নয়, আইপিএলেও সুন্দরকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তাঁর বাবার। তবে ম্যাঞ্চেস্টারে তাঁর এহেন ম্য়াচ বাঁচানো পারফরম্যান্সের পর আর কিছু হোক না হোক, ওভাল টেস্টের জন্য সম্ভবত ভারতীয় অলরাউন্ডার একাদশে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন বলে মনে করাই যায়।