কলকাতা: সব কিছু ঠিকঠাক চললে মঙ্গলবার ইডেনে (Eden Gardens) টেস্ট ম্যাচের রুদ্ধশ্বাস পরিণতি হতে পারত। কিন্তু আড়াই দিনের মধ্যে টেস্ট ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছে। ভারতের পছন্দের পিচে ভারতকেই নাকানিচোবানি খাইয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইডেনে জিতে টেস্ট সিরিজে ১-০ এগিয়ে প্রোটিয়ারা।

Continues below advertisement

তবে মঙ্গলবার ইডেনে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটারদের অনেকেই। সঙ্গে কোচ গৌতম গম্ভীরও। ২২ নভেম্বর থেকে গুয়াহাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট। তার আগে ইডেনেই এক দফা প্রস্তুতি সেরে নিল ভারতীয় দল।

প্রথম টেস্টে ভারতের লজ্জার হারের পর ইডেন গার্ডেন্সের পিচ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ইডেনের বাইশ গজ ভাল ক্রিকেটের উপযুক্ত নয়। সিএবি থেকে পাল্টা বলা হয়, ভারতীয় দল যেরকম চেয়েছে, সেরকম পিচই বানানো হয়েছিল। এ-ও বলা হয় যে, ইডেনের কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়কে নাকি কাজই করতে দেওয়া হয়নি। সুজন যে তাতে খুশি হয়েছিলেন, এমন অভিযোগ নেই। বরং বেশ মনক্ষুণ্ণই হয়েছিলেন বলে খবর। গৌতম গম্ভীরের নির্দেশ মেনে পিচকে স্পিন বোলিং সহায়ক বানিয়েছিলেন বোর্ডের দুই কিউরেটর আশিস ভৌমিক ও তাপস চট্টোপাধ্যায়। ম্যাচের আগে জল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও জানিয়েছিলেন, ভারতীয় দলের পছন্দ অনুযায়ী পিচ তৈরি করা হয়েছে।

Continues below advertisement

ইডেনের কিউরেটরের সঙ্গে তু তু ম্যায় ম্যায় সম্পর্ক কি মিটল গম্ভীরের? মঙ্গলবার দেখা গেল, সুজনকে দেখেই তাঁর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন গম্ভীর। সঙ্গে সহকারী কোচ সীতাংশু কোটাক। সুজনকে জড়িয়ে ধরেন গম্ভীর। বেশ কিছুক্ষণ গল্প করেন কিউরেটরের সঙ্গে। ইডেনে পরাজয়ের পর পিচ বিতর্কের দায় নিজেদের কাঁধে নিয়েছিলেন গম্ভীর। জানিয়েছিলেন, তাঁদের দাবি মেনেই পিচ তৈরি হয়েছিল ইডেনে। ব্যাটিংয়ের দিকে আঙুল তুলেছিলেন গম্ভীর। জানিয়েছিলেন, পিচের জন্য নয়, নিজেদের দক্ষতার অভাবে হেরেছে দল।

গুয়াহাটিতেও স্পিন পরীক্ষার ইঙ্গিত রয়েছে। তাই মঙ্গলবার ইডেনে ভারতীয় দলের যে জনা ছয়েক ক্রিকেটার প্র্যাক্টিসে এসেছিলেন, তাঁদের বিশেষ প্র্যাক্টিসও চলল। এক পায়ে প্যাড পরে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করলেন রবীন্দ্র জাডেজা, সাই সুদর্শন, দেবদত্ত পাড়িক্কলরা। গম্ভীরকে দেখা গেল সুদর্শন ও দেবদত্তের সঙ্গে লম্বা আলোচনা করছেন। দ্বিতীয় টেস্টে শুভমন খেলতে না পারলে তাঁর পরিবর্ত হতে পারেন দুজনের যে কেউ।

আর একটা ছবিও নজর কাড়ল। শুভমনের ঘাড়ে ব্যথার পর সিএবি-র কাছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেয়েও সময়ে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছিল। যে কারণে মঙ্গলবার ভারতের প্র্যাক্টিসের সময় এক ঝাঁক চিকিৎসককে দেখা গেল। শহরের যে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সিএবি-র চুক্তি রয়েছে, সেখানকার বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মাঠে ছিলেন। কেউ কেউ বলাবলি করলেন, ঐচ্ছিক প্র্যাক্টিসে ক্রিকেটারের চেয়ে চিকিৎসকের সংখ্যা বেশি!