মুম্বই: ম্যাঞ্চেস্টারে একেবারে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে ভারতীয় দলকে (Indian Cricket Team) রক্ষা করেন রবীন্দ্র জাডেজা এবং ওয়াশিংটন সুন্দর। দুই তারকার শতরানে ভর করেই খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসে ভারত। তবে এই স্মরণীয় লড়াই এবং ম্য়াচ ড্র করা হয়তো মর্নি মর্কেল (Morne Morkel) এবং রায়ান টেন দুশখাতের (Ryan ten Doeschate) চাকরি বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট হবে না।
দিনকয়েক আগেই ভারতীয় দল বর্ডার-গাওস্কর ট্রফিতে পরাজিত হওয়ার পরেই সহকারী কোচ অভিষেক নায়ারকে সহকারী কোচের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতীয় দলের বোলিং কোচ মর্কেল ও সহকারী কোচ দুশখাতের পারফরম্যান্সে ভারতীয় বোর্ড একেবারেই খুশি নয়। তাঁরা দুই কোচকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের পরবর্তী টেস্ট সিরিজ়ের আগে ছেঁটে ফেলতে বদ্ধপরিকর। চলতি ইংল্যান্ড সিরিজ়ের পরেই ভারতীয় দলের সামনে আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপের মহারণ শুরু হবে। এত দ্রুত কোনও বিকল্প খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, সেই কারণেই আপতত এশিয়া কাপে অন্তত মর্কেলরাই ভারতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন।
ভারতীয় দল নতুন কোচিং জুটির তত্ত্বাবধানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে। তবে টেস্ট ভারতীয় দলের রেকর্ড একেবারে হতশ্রী। ঘরের মাঠে নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোয়াইটওয়াশসহ ১৪ টি টেস্টের মধ্যে ভারতীয় আটটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও সহকারীদের চাকরি গেলেও গৌতম গম্ভীর প্রধান কোচ হিসাবে নিজের ভূমিকায় অব্যাহতই থাকছেন বলে খবর। বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোচিং স্টাফে সম্পূর্ণরূপে বদল ঘটাতে নারাজ।
তবে বিসিসিআই আধিকারিকরা মনে করেন মর্কেল ও দুশখাতে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। ভারতের হয়ে অভিষেক ঘটানো নবতম ক্রিকেটার অংশুল কম্বোজের ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে ১২০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বল করা এবং ম্যাচে তেমন প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হওয়া মর্কেলের বিদায়ে সিলমোহর দেয় বলে খবর। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিজের সময়ে তিনি কোনও তরুণ ক্রিকেটারকেই গ্রুম করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কুলদীপ যাদবকে নিরন্তর দলের বাইরে রাখা নিয়েও কর্তারা খুব একটা খুশি নন বলেই খবর।
শুধু কিন্তু মর্কেলরা নন, ভারতীয় প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর এবং পূর্বাঞ্চলের নির্বাচক শিবসুন্দর দাসের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। তাঁরা দুইজনেই বর্তমানে ভারতীয় দলের সঙ্গে ইংল্যান্ডে রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে খেলোয়াড় বাছাই নিয়েও নির্বাচকদের কয়েকজনের বেশ মতবিরোধ রয়েছে।