মুম্বই: মহিলাদের বিশ্বকাপের (ICC Women's World Cup 2025) ফাইনালে পৌঁছতে সামনে ছিল এমন এক লক্ষ্য যা এর আগে কোনও দিনও কোনও পুরুষ বা মহিলা ক্রিকেট দল করেনি। তবে বৃহস্পতিবার ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ঠিক তেমনটাই করে দেখাল হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। অধিনায়ক হরমনপ্রীত নিজে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। তবে এদিন ভারতের জয়ের নায়ক জেমাইমা রডরিগেজ় (Jemimah Rodrigues)। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে (IND vs AUS) ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে তিনিই ভারতকে ফাইনালে পৌঁছে দিলেন।
ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ শতরান। রাতটা নিঃসন্দেহেই জেমাইমার কাছে অত্যন্ত আবেগের ছিল। ম্যাচ জিতে হাউ হাউ করে কেঁদে ভাসালেন তিনি। মনে করিয়ে দিলেন এই জায়গায় পৌঁছনোর আগে তাঁকে ঠিক কতটা লড়াই, দুঃখের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।
ম্যাচশেষে জেমাইমাকে বলতে শোনা যায়, 'গত বছরে আমি বিশ্বকাপে সুযোগ পাইনি। দল থেকে বাদ পড়েছিলাম। আমি ভাল ফর্মে থাকলেও কিছু যেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না। সব হু হু করে হয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় আমি প্রতিটি দিন কাঁদতাম। মানসিকভাবে আমি ভাল জায়গায় ছিলাম না, অবসাদে ভুগছিলাম। তবে জানতাম ফিরে আসতে হবে। বাকিটা ঈশ্বর সামলে নেবেন। আজ প্রথম দিকে নিজের মতোই ব্যাটিং করছিলাম। তবে শেষের দিকে বাইবেলের কোট পড়ছিলাম। আমি ওখানে দাঁড়িয়েছিলাম, ঈশ্বর আজ আমার জন্য লড়েছেন। আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ভারতকে জিততে দেখার পর আর নিজেকে সামলাতে পারিনি।'
হরলীন দেওল আজ দলে ছিলেন না, তাঁর বদলে জেমাইমা তিন নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পান। একেবারে নাকি শেষ মুহূর্তে তাঁকে এই বিষয়ে জানানো হয়। তিনি জানান, 'আমি তো জানতামই না যে আমি তিন নম্বরে ব্যাট করব। আমি স্নান করছিলাম আর ওদের বলেছিলাম যে আমায় দরকারে ডাকতে। ব্যাটে নামার পাঁচ মিনিট আগে জানতে পারি আমি তিন নম্বরে ব্যাট কতে নামব। আজকের রাতটা আমার বিষয়ে নয়, ভারতের জন্য এই ম্যাচটা আমি জিততে চেয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে চেয়েছিলাম। আজকের রাচটা আমার অর্ধশতরান বা শতরানের নয়, রাতটা ছিল ভারতকে জেতানোর। এর আগে যা যা হয়েছে (গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হারা) সেটা আজকের জন্য আমাদের প্রস্তুত করেছে।'
ভারতীয় দলের জেমাইমা ও হরমনপ্রীতের রেকর্ড ১৬৭ রানের পার্টনারশিপই দলের জয় সুনিশ্চিত করে। এরপর রবিবাসরীয় ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ভারত।