লাহৌর: ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে আফগানিস্তান (Afghanistan)। তবে টুর্নামেন্ট বাতিল হচ্ছে না। পূর্ব সূচি মেনেই ১৭ থেকে ২৯ নভেম্বর লাহৌরে সিরিজ হবে বলে জানিয়ে দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (Pakistan Cricket Board)।

Continues below advertisement

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের পরিবর্ত হিসাবে অন্য কোনও দেশকে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে শ্রীলঙ্কার আর একটি দল আনার ভাবনাও। এমনিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কা খেলছেই। তাদের আরও একটি দল তৈরি করে খেলানো যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

পাক বোর্ডের ওই কর্তা বলেছেন, 'পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ত্রিদেশীয় সিরিজ হবে। আফগানিস্তান নাম তুলে নিলেও সমস্যা হবে না। আমরা বিকল্প দলের খোঁজ করছি। সেটা চূড়ান্ত হয়ে গেলেই ঘোষণা করা হবে।'

Continues below advertisement

পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মধ্যে ত্রিদেশীয় টি-২০ সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, পাক হামলায় তিন ঘরোয়া ক্রিকেটারের মৃত্যুর পর সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিন ক্রিকেটার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে ACB। তাতে তারা লিখেছে, "পাকিস্তান সরকারের কাপুরুষোচিত আক্রমণ।"

ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলার কথা ছিল আফগানিস্তানের। সিরিজে শ্রীলঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কড়া বিবৃতি জারি করেছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রশিদ খান। আকাশপথে পাকিস্তানের এই হামলাকে বর্বরোচিত বলেছেন তিনি। পাশাপাশি লেগস্পিনার জানিয়েছেন, ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে আফগানিস্তানের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়াকে তিনি সমর্থন করেন। শনিবার এক বিবৃতিতে ACB লিখেছে, "এই হৃদয়বিদারক ঘটনায়, উরগুন জেলার তিনজন খেলোয়াড় (কবীর, সিবঘাতুল্লাহ এবং হারুন) সহ আরও ৫ জন দেশবাসী শহিদ হয়েছেন এবং সাতজন আহত হয়েছেন।"

সম্প্রতি ভয়ঙ্কর সীমান্ত-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। গত বুধবার তাতেই বেশকিছু মানুষ নিহত ও জখম হন। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনার একটি সীমান্ত আউটপোস্ট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় আফগান তালিবান। এর পাশাপাশি তালিবান পোস্টকে টার্গেট করে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ব্যবহার করা একটি ট্যাঙ্কও বাজেয়াপ্ত করে তারা। পাকিস্তানের চমন জেলা এবং দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের স্পিন বোলডাক জেলায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। আফগানিস্তান দাবি করেছে, তাদের বাহিনী রাতে সীমান্ত অপারেশনে পাকিস্তান সেনার ৫৮ জন জওয়ানকে মেরে ফেলেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান দাবি করেছে যে, দুশোর বেশি আফগান জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। আর তাদের ২৩ জন নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ এবং পাকিস্তানের বালুচিস্তান অঞ্চলের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী জেলা স্পিন বোলডাকে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হন বলে দাবি করেছে আফগান তালিবান।