মুম্বই: আইপিএলের মাঝেই বিরাট সিদ্ধান্ত নিলেন রোহিত শর্মা। ঘোষণা করে দিলেন, ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না তাঁকে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন রোহিত। তবে জানালেন, ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে খেলা চালিয়ে যাবেন।

গত বছর অধিনায়ক হিসাবে টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টি-২০ ফর্ম্যাট থেকে অবসর ঘোষণা করেছিলেন রোহিত (Rohit Sharma)। তাঁর সঙ্গেই আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেট থেকে বিদায় ঘোষণা করেছিলেন বিরাট কোহলি ও রবীন্দ্র জাডেজাও। তবে রোহিত জানিয়েছিলেন, বাকি দুই ফর্ম্যাটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।

যদিও সম্প্রতি টেস্ট ক্রিকেটেও রোহিতের ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। বিশেষ করে দেশের মাটিতে নিউজ়িল্যান্ডের কাছে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বর্ডার গাওস্কর ট্রফিতে ভরাডুবির পর রোহিতের জায়গা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছিল কোনও কোনও মহল থেকে।

আইপিএলের পরই ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছে ভারতীয় দল। সেখানে পাঁচ টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। বুধবার দুপুরের দিক থেকেই বোর্ডের বিভিন্ন মহল থেকে খবর আসছিল যে, রোহিতকে সেই সিরিজে অধিনায়ক নাও রাখা হতে পারে। পরিবর্তে অধিনায়ক করা হতে পারে অন্য কাউকে। শোনা যাচ্ছিল, দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন যশপ্রীত বুমরা। ভারতের তো বটেই, বিশ্বের সেরা ফাস্টবোলার বুমরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেও প্রথম টেস্টে বুমরার নেতৃত্বে দুরন্ত ক্রিকেট খেলেছিল ভারত। যদিও চোটের জন্য দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন বুমরা। আইপিএলের শুরুর দিকেও খেলতে পারেননি। পরে তিনি ফিট হয়ে ফিরেছেন। ফিরেই দুরন্ত ছন্দে।

রোহিতও কি নির্বাচকদের সম্ভাব্য পদক্ষেপের আঁচ পেয়েছিলেন? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, পেয়েছিলেন। এবং সেই জন্যই শুধু নেতৃত্ব নয়, একেবারে টেস্ট ক্রিকেটকেই বিদায় জানালেন। ঠিক যেমন টি-২০ ক্রিকেটও ছেড়েছিলেন অধিনায়ক থাকাকালীনই।

বুধবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ রোহিত নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, 'সকলকে জানাচ্ছি, আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলাম। সাদা পোশাকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার কাছে গর্বের মুহূর্ত। বছরের পর বছর ধরে যে ভালবাসা ও সমর্থন দিয়ে গিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।' পাশাপাশি রোহিত লিখেছেন, 'আমি ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে ভারতের হয়ে খেলা চালিয়ে যাব।'

যা দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, রোহিতের পাখির চোখ ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও পরাজয় যেন হজম করতে পারেননি রোহিত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ জিততে মরিয়া হিটম্যান।