গুয়াহাটি: ইডেন গার্ডেন্সে শুরু থেকেই হু হু করে উইকেট পড়েছিল। তবে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার (India vs South Africa) দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে অন্তত এখনও পর্যন্ত ব্যাটারদের দাপট দেখা গেল। ম্যাচের প্রথম দুই সেশনে একটি করে উইকেট পড়ল। বর্ষাপাড়া ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লাঞ্চে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর দুই উইকেটের বিনিময়ে ১৫৬। আপাতত ট্রিস্টান স্টাবস ৩২ এবং তেম্বা বাভুমা ৩৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। ভারতীয় দল এদিন একাদশে দুই বদল করে মাঠে নামে। জল্পনা মতোই নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং সাই সুদর্শন একাদশে সুযোগ পান শুভমন গিল এবং অক্ষর পটেলের জায়গায়। শুরুটা বেশ জমাটিভাবেই করেছিল প্রোটিয়া দল। দুই ওপেনার অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ গড়েন। বেশ কয়েকটি সুন্দর কভার ড্রাইভ এবং জমাটি ডিফেন্সে ভর করে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এডেন মারক্রাম এবং রায়ান রিকেলটন।
তবে অবশেষে এডেন মারক্রামের জমাটি রক্ষণ ভাঙেন বুমরা। তাঁকে বোল্ড করে ৩৮ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান ভারতের তারকা বোলার। ৮২ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তারপরেই চা পানের বিরতি ঘোষণা করা হয়। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। লাঞ্চ নয়, এদিন প্রথম সেশন শেষে চা পানের বিরতিই হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত? এর পিছনে রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের সূর্যাস্তের সময়। বাকি দেশের তুলনায় অসমের মতো উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যে আগেই সূর্যাস্ত হয়, সেই কারণেই এই বদল। এই টেস্টে তাই আগে চা পানের বিরতি নেওয়া হচ্ছে।
চা পানের বিরতির পরেই কুলদীপ যাদব রায়ান রিকেলটনকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। ৩৫ রানে আউট হন প্রোটিয়া ওপেনার। তবে এরপর আর গোটা সেশনে ভারতীয় দল কোনও উইকেট ফেলতে পারেনি। বাভুমা এবং স্টাবস দুরন্ত ৭৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ফেলেছেন। স্পিন সামলাতে স্টাবসের এগিয়ে এসে ডিফেন্ড করা এবং বাভুমার একের পর এক স্যুইপ খেলার পরিকল্পনা কিন্তু বেশ সফলই। নিরন্তর ব্যবধানে চার, ছক্কা হাঁকিয়ে রানও এগিয়ে নিয়ে যান প্রোটিয়া তারকারা। স্টাবস কুলদীপের বিরুদ্ধে বেশ আগ্রাসী ব্যাটিংই করেন।
এই দুই তারকার ব্যাটে ভর করেই কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা এরপরে ম্যাচের তৃতীয় সেশনে নিজেদের স্থান আরও পোক্ত করে বড় রানের পথে অগ্রসর হতে চাইবে। সেই লক্ষ্যে তারা কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।