শারজা: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ (United Arab Emirates vs Bangladesh)। সেই সিরিজ়েও মুখ পুড়ল লিটন দাসদের। প্রথম ম্যাচ জিতলেও, দ্বিতীয় টি-টোয়োন্টি জিতে সিরিজ়ে সমতায় ফিরেছিল আমিরশাহি। এবার তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও দুরন্ত জয়ে বাংলাদেশকে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে হারাল আমিরশাহি। শারজায় আয়োজিত ম্যাচে পাঁচ বল ও সাত উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ ও সিরিজ় জিতে নেয় মরুদেশ।  

গত ম্যাচে আমিরশাহির জয়ের নায়ক ছিলেন অধিনায়ক মহম্মদ ওয়াসিম। এই ম্যাচে বল হাতে হায়দার আলি ও ব্য়াট হাতে আলিশান শারাফু আমিরশাহির জয়ের নায়ক। হায়দার আলি চার ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র সাত রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট নেন। অপরদিকে, ১৬৩ রান তাড়া করতে নেমে দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৬৮ রানের ইনিংস খেলেন শারাফু। তাঁকেই ম্যাচ সেরাও ঘোষণা করা হয়। 

এদিন প্রথমে টস জিতে আমিরশাহি বাংলাদেশকে ব্যাট করার আহ্বান জানায়। শুরু থেকেই একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। নতুন বল হাতে হায়দার আলি একাধিক উইকেট নেন। অপরপ্রান্তে অবশ্য তানজিদ হাসান দুরন্ত গতিতে এগোচ্ছিলেন। তবে তিনিও পাওয়ার প্লে শেষেই ১৮ বলে ৪০ রান করে আউট হন। একসময় ৮৪ রানে আট উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে অবশ্য জাকের আলি পাল্টা লড়াই চালান। হাসান মামুদ ও জাকের আলি নবম উইকেটে ৪৪ রান যোগ করেন। মামুদ ও শরিফুল দশম উইকেটে যোগ করেন ৩৪ রান। দুইটিই বাংলাদেশের সর্বকালীন রেকর্ড। জাকের ৪১, হাসান মামুদ ২৬ ও শরিফুল ১৬ রান করেন।

লক্ষ্য খুব একটা বড় ছিল না। দিনকয়েক আগেই রেকর্ড রান তাড়া করে জিতে ইতিহাস গড়েছিল আমিরশাহহি। সেই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টায় ছিলেন আমিরশাহির ক্রিকেটাররা। তবে ইনফর্ম অধিনায়ক ওয়াসিমকে হারিয়ে শুরুটা খুব একটা ভাল করতে পারেনি আমিরশাহি। আরেক ওপেনার মহম্মদ জোয়েবকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস সামলানোর কাজ করেন আলিশান। তাঁরা ৪৪ রান যোগ করেন। এরপর শারাফুকে যোগ্য সঙ্গ দেন আসিফ খান। চতুর্থ উইকেটে এই দুইয়ের ৮৭ রানের পার্টনারশিপই আমিরশাহির ঐতিহাসিক জয় সুনিশ্চিত করেন। বাংলাদেশর হয়ে শরিফুল, তানজ়িম ও রিশাদ একটি করে উইকেটে নেন। তবে  তা যে জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না, তা কিন্তু বলাই বাহুল্য।