নয়াদিল্লি: ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বসেরা ওপেনারদের প্রসঙ্গ উঠলে বীরেন্দ্র সহবাগের (Virender Sehwag) নাম উঠে আসা বাঞ্ছনীয়। ভারতের হয়ে ওয়ান ডে হোক বা টেস্ট বা টি-টোয়েন্টি শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের মনোবল ভেঙে দিতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন সহবাগ। টেস্টে ৮২.২৩ এবং ওয়ান ডেতে ১০৪.৩৩ স্ট্রাইক রেট নিয়ে ব্যাট করাটা তো আর মুখের কথা নয়। তার উপর ওই স্ট্রাইক রেটে ৮২৭৩ রান করা। সহবাগ নিঃসন্দেহেই সর্বসেরা ওপেনারদের অন্যতম। দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি এবং ২০১১ সালে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপও জিতেছেন সহবাগ।

তবে বীরু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তাঁর ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জয় অধরাই থেকে যেত যদি না সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar) এগিয়ে আসতেন। ২০১১ সালের আগে তৎকালীন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (MS Dhoni) তাঁকে ওয়ান ডে দল থেকে বাদ দেন এবং সেই সময়ই 'নজফগড়ের নবাব' ওয়ান ডে থেকে অবসর নিয়ে নেওয়ার ভাবনাচিন্তাও করছিলেন। 

সহবাগ জানান, '২০০৭-০৮ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে আমি প্রথম তিনটি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছিলাম। কিন্তু তারপরেই এমএস ধোনি আমায় দল থেকে বাদ দিয়ে দেয়। তারপরে বেশ খানিকটা সময় আর আমি দলে জায়গা পাইনি। তখনই আমার মনে হয়েছিল যদি আমি দলে জায়গাই না পাই, তাহলে আর আমার ওয়ান ডে ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার কোনও অর্থই নেই। আমি সচিন তেন্ডুলকরকে গিয়ে জানিয়েছিলাম যে আমি ওয়ান ডে থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছি।'

এই সময়ই সচিন এগিয়ে আসেন এবং তাঁর দেওয়া পরামর্শেই সহবাগ নিজের মনবদল করেন বলে জানান তিনি। 'ওঁ (সচিন) আমায় বলেছিলেন যে ওঁ নিজেও ১৯৯৯-২০০০ সালে এমন একটা সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন যখন ওঁর মনে হয়েছিল যে এবার ক্রিকেটটা ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে আব আবেগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে না করেন ওঁ। এক, দুই সিরিজ়, নিজেকে খানিকটা সময় দিয়ে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই সিরিজ় শেষে আমি পরবর্তী সিরিজ়ে আবার সুযোগ পাই এবং সেই সিরিজ়ে অনেক রানও করি। তারপর তো ২০১১ সালের বিশ্বকাপ খেলি এবং আমরা সেই বিশ্বকাপ জিতিও।' বলেন ভারতীয় প্রাক্তনী।

সহবাগ অজ়িভূমে সেই ত্রিদেশীয় সিরিজ়ের পর শুধু যে দলে ফেরেন, তাই নয়, দলের সহ-অধিনায়কও নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত ধোনির নেতৃত্বে নিয়মিত খেলেন। কিন্তু তারপর দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে সেখানে খাটা খাটনি করেও আর জাতীয় দলে ফিরতে পারেননি সহবাগ। শেষমেশ ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন তিনি।