নয়াদিল্লি: তাঁকে খোদ কোচ লিওনেল স্কালোনি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার উত্তরসূরি হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন। থিয়াগো আলমাদা যে কোচের আস্থা এবং ভরসার মান রাখছেন, তা বলাই বাহুল্য। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের (World Cup Qualifiers) ম্যাচে আলমাদার গোলেই জয় পেল লা আলবিসেলেস্তে (Argentina vs Uruguay)। এই জয়ের সুবাদেই গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আগামী বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পাওয়ার পথে এক পা বাড়িয়েই রাখল।
বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বের লাতিন আমেরিকান বিভাগে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত একেবারে শীর্ষে আর্জেন্তিনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের থেকে তারা ছয় পয়েন্টে এগিয়ে। আর্জেন্তিনা এরপরের ম্যাচে নিজেদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, তালিকায় তিনে থাকা ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে। সেই ম্যাচে ইতিবাচক ফলাফল কিন্তু স্কালোনির দলের বিশ্বকাপ টিকিট পাকা করে দিতে পারে।
প্রথমার্ধে আর্জেন্তিনা এবং উরুগুয়ে দুই দলই খুব বেশি আক্রমণ ও গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং উভয় দলই জমি জরিপ করে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য ঝাঁপায়। অ্যালেক্সিস ম্যাকালিস্টার ও জুলিয়ান আলভারেজের দুরন্ত পাসিং ফুটবলের পর বক্সের বাইরে থেকে আলমাদার জোরাল শট বাঁচান উরুগুয়ে গোলরক্ষক সার্জিও রচেট। এরপর সিমিওনেরও একটি শট প্রতিহত করেন তিনি।
তবে ম্যাচের ৬৮ মিনিটে অবশেষে গোলের দরজা খোলে। এক্ষেত্রে আলমাদার শট বাঁক খাওয়ানো শট আর রুখতে পারেননি রচেট। এটি ২৩ বছর বয়সি ফুটবলারের জাতীয় দলের হয়ে সপ্তম ম্যাচে তৃতীয় গোল। এক গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্তিনা নিকোলাস ওতামেন্দির তত্ত্বাবধানে দাঁতে দাঁত চেপে ডিফেন্স করে। আর্জেন্তিনার জমাট রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হয় আয়োজক উরুগুয়ে। তবে শেষবেলায় নিকো গঞ্জালেজ খারাপ চ্যালেঞ্জের জন্য লাল কার্ড দেখেন। ফলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচে তাঁকে খেলতে দেখা যাবে না।
এই ম্যাচে চোটের কবলে থাকা, আর্জেন্তিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি মাঠে নামতে পারেননি। তবে তা সত্ত্বেও তাঁর দল কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে প্রমাণ করে দিল যে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কেবল মেসিনির্ভরশীল নয়। ঘটনাক্রমে, এটি গোলরক্ষক এমি মার্তিনেজ়ের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্য়াচও বটে। মাত্র তৃতীয় আর্জেন্তাইন গোলরক্ষক হিসাবে ৫০ ম্যাচের গণ্ডি পার করলেন তিনি। আর ৫০তম ম্যাচে এই নিয়ে ৩৪টি ক্লিনশিট রাখতে সক্ষম হলেন অ্যাস্টন ভিলা তারকা।