কলকাতা: মরশুমে দুবারের সাক্ষাতে দুবারই মোহনবাগানকে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal vs Mohun Bagan)। লাল-হলুদ জনতা অপেক্ষায় ছিল, শনিবার সল্ট লেকের যুবভারতী স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে দেবে তারা। দীপাবলির আগেই শুরু হবে আলোর রোশনাই।
ম্যাচে শুরুতে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ জনতার আবেগ অবশ্য ধাক্কা খেল। প্রথমে ম্যাচে সমতা ফেরাল মোহনবাগান। তারপর টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই দিল তারা। দীপাবলির আলোর রোশনাইয়ের রং পাল্টে হয়ে গেল সবুজ-মেরুন। ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে ১২৫তম আইএফএ শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর পরে আইএফএ শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন হল মোহনবাগান। সমর্থকদের ক্ষোভেও যেন প্রলেপ পড়ল কিছুটা। এএফসি টুর্নামেন্ট খেলতে ইরানে যায়নি বলে প্রিয় ক্লাবের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। এমনকী, ফুটবলাররদের ঘিরেও চলেছিল ক্ষোভ প্রদর্শন। দিমিত্রি পেত্রাতোসের গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগও উঠেছিল সমর্থকদের বিরুদ্ধে। আইএফএ শিল্ডে আগের ম্যাচেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয়েছিল পুলিশকে। শনিবারের জয় সমর্থকদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমন করতে পারে।
শনিবার ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠেছিল ম্যাচ। কিক অফের পর ৮ মিনিটের মাথায় গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন জেমি ম্যাকলারেন। কিন্তু তাঁকে প্রতিহত করেন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভসুখন গিল।
৩২ মিনিটে পেনাল্টি পায় মোহনবাগান। তবে জেসন কামিংস বল গোলপোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয় মোহনবাগানের। ৩৬ মিনিটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ এগিয়ে দেন হামিদ আহদাদ। ৪৩ মিনিটে ২-০ করে দিতে পারতেন আহদাদ। তাঁর জোরাল শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। বিরতির ঠিক আগে মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান আপুইয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল। ইস্টবেঙ্গলের হিরোশি অল্পের জন্য সুযোগ নষ্ট করেন। রবসনও অল্পের জন্য মোহনবাগানকে এগিয়ে দিতে পারেননি। ৯০ মিনিটে ১-১ থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই গোল করতে পারেনি। টাইব্রেকারে একটা সময়ে ফল ৩-৩ ছিল। চতুর্থ শট নিতে আসেন জয় গুপ্তা। তাঁর শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান বিশাল কায়েথ। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ (১-১) ব্যবধানে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে দেয় মোহনবাগান।