বুয়েনস আইরস: অনেকেই মনে করছেন দেশের মাটিতে আর্জেন্তিনার (Argentina football team) হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। সেই প্রত্যাশা থেকেই সম্ভবত এস্টাডিও মনুমেন্টালে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে কিন্তু মাঠে উপস্থিত দর্শকদের একেবারেই হতাশ করেননি 'এলএম১০'। জোড়া গোল করেন আর্জেন্তাইন অধিনায়ক। তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রতিক্রিয়ায় ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করলেন মেসি।
মেসির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট যেন আর্জেন্তিনায় তাঁর শেষ ম্যাচ খেলে ফেলার জল্পনাকে আরও ইন্ধন জোগাল। লিও লেখেন, 'এক বিশেষ রাত্রি যার অনুভূতি ব্য়ক্ত করার জন্য আমার কাছে কোনও ভাষা নেই। সকলকে আমাদের ভালাবাসা ও সমর্থন করার জন্য হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে কী হতে চলেছে, কী হবে, সেটা কেবল ঈশ্বরই জানেন। লেটস গো আর্জেন্তিনা।'
এই ম্যাচে মেসির হাবভাবেও যেন বিদায়ের বাঁশি শোনা যাচ্ছিল। তিনি ম্যাসকট হিসাবে তাঁর তিন ছেলের সঙ্গে মাঠে নামেন। খেলা শুরুর আগে জাতীয় সংগীতের সময় মেসিকেও বেশ আবেগঘন দেখায়। ম্যাচে অবশ্য এই আবেগের প্রভাব খেলার উপর একেবারেই পড়তে দেননি মতান্তরে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। একেবারে স্বমহিমায় দেখা যায় তাঁকে।
৩-০ জেতা ম্যাচে আলবিসেলেস্তের হয়ে জোড়া গোল করলেন মেসি। এই জোড়া গোলের সুবাদেই আবার তিনি নিজের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর আরও এক কৃতিত্বে ভাগ বসালেন। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে এটি মেসির ৩৫ ও ৩৬তম গোল ছিল। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে গোলের নিরিখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা হয়ে গেলেন মেসি। ম্যাচে লাউতারো মার্তিনেজ আর্জেন্তিনার হয়ে অপর গোলটি করেন।
সামনের বছরের বিশ্বকাপে মেসির পাশাপাশি আরেক লাতিন আমেরিকান আইকনের খেলাও নিশ্চিত হয়ে গেল। তিনি হামেশ রদরিগেজ়। ম্যাচে কলম্বিয়ার অধিনায়কই বলিভিয়ার বিরুদ্ধে ৩১তম মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন। দ্বিতীয়ার্ধে জন ডুরান ও কুইনতেরো যথাক্রমে ৭৪ ও ৮৩ মিনিটে গোল করে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন। অপরদিকে, মার্সেলো বিয়েলসা কোচ হিসাবে তৃতীয় দেশকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেন। পেপ গুয়ার্দিওলা পর্যন্ত যাঁর কোচিংয়ে মুগ্ধ সেই বিয়েলসা এবার উরুগুয়েকে নাগাড়ে পঞ্চমবার বিশ্বকাপের ছাড়পত্র এনে দিলেন। পেরুকে তাঁরা ৩-০ গোলে হারাল।