কলকাতা: পালাবদলের পর খুলেছে 'মেসি ফাইলস'। একদা মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার জেরে যে শতদ্রু দত্তকে (Satadru Dutta) গ্রেফতার করা হয়েছিল, সেই শতদ্রুর নিশানায় ফের রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। তাঁর দাবি গোটা ইভেন্টকে শেষ করে দিয়েছেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসই। অরূপ বিশ্বাস ও পুলিশের ব্যর্থতার জন্যই যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা।

Continues below advertisement

সম্প্রতি দক্ষিণ বিধাননগর থানায় অরূপ বিশ্বাস, রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি, তৃণমূলের রাজ্যসভা বর্তমান সাংসদ রাজীব কুমার, জুঁই বিশ্বাসদের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন শতদ্রু। এবার এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক না না দাবি করলেন মেসি ইভেন্টের প্রধান উদ্যোক্তা। 

শতদ্রু বলেন, 'অরূপ বিশ্বাসই নিজে আমার ইভেন্টটাকে শেষ করেছিলেন। ওঁ নিজে ঢুকে, লোক ঢুকিয়ে, ইভেন্টটাকে শেষ করেছিলেন। পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনারকে বারংবার বলা সত্ত্বেও কোনও অ্যাকশন নেওয়া হল না। তখনই আমি মাঠে ঢুকে বুঝতে পেরেছিলাম, ওঁ গোটা বিষয়টায় নিজের ক্ষমতার ব্যবহার করেছেন।'

Continues below advertisement

তাঁর দাবি, ৩০টি অ্যাকসেস কার্ড দেওয়ার পরেও আরও অ্যাকসেস কার্ডের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন অরূপ বিশ্বাস এবং তিনি সেটা পুলিশকে জানিয়েও ছিলেন। 'তিনদিন আগে ডিজিপির সঙ্গে যখন বৈঠক করেছিলাম তখন কমিশনার, আইনশৃঙ্খলা এডিজি জাভেদ শামিম ছিলেন, তখন আমি পরিস্কার বলে দিয়েছিলাম ওঁ (অরূপ বিশ্বাস) আমায় অ্যাকসেস কার্ডের জন্য চাপ দিচ্ছেন। আমি যা দেওয়ার দিয়েছি, আর দেব না। নিজের আত্মীয়কে অফিসিয়াল বানিয়ে অ্যাকসেস কার্ড দিয়েছিলেন। আমায় তো বলেই ছিলেন যে আমি তোর থেকে আর অনুমতি নেব না, কারণ মাঠটা আমার।' দাবি শতদ্রুর।

আরও পড়ুন:- নির্ধারিত হয়ে গেল কোয়ালিফায়ার ১-এর দুই প্রতিপক্ষ, প্লে-অফের শেষ স্থানের জন্য লড়াইয়ে চার দল 

শতদ্রুর জানান অরূপ বিশ্বাস অনুষ্ঠানের অংশ ছিলেন না, কিন্তু জুঁই বিশ্বাসের তো মাঠেই ঢোকার কথা ছিল না। তিনি জানান তৎকালীন ডিজিপি নিজে তাঁকে কলকাতা বিমানবন্দরে গ্রেফতার করার জন্য গিয়েছিলেন। শতদ্রুর দাবি নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তাঁকে কার্যত বলির পাঁঠা করা হয়। 'ওটা তো নির্বাচনের সময় ছিল। অরূপ বিশ্বাসকে তো আর জেলে ঢোকাতে পারবে না। তাই জনরোযের মাঝে ওপর থেকে চাপের মুখে আমায় জেলে ঢোকানো হয়। গোটা বিশ্ব দেখেছে অরূপ বিশ্বাস কীভাবে অনুষ্ঠানটাকে নষ্ট করে দিয়েছিলেন।'

শতদ্রু এও জানান পুলিশের কাছে বিচার না পেলে তিনি আদালতে যাবেন এবং সকলের বিরুদ্ধে তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করে গরমের ছুটি শেষ হলেই আদালতে মামলা দায়ের করবেন বলেও ঠিক করে রেখেছেন।