নয়াদিল্লি: জাতীয় স্তরের একজন কোচের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে পারফরম্যান্সে উন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদাবাদের এক হোটেল রুমে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছেন বলে ওই কোচ। আর এই খবরেই চারিদিকে হইচই। নয়াদিল্লির কর্ণি সিংহ শ্যুটিং রেঞ্জে এক শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপের সময়ই এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ওই অভিযোগকারী জানিয়েছে। ঘটনাটি গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরের।

Continues below advertisement

অভিযোগকারিনী জানান ওই কোচ ফরিদাবাদের সূর্যকুণ্ড অঞ্চলে থাকছিলেন। সেখানেই তিনি টুর্নামেন্ট শেষে ওই নাবালিকাকে ডেকে পাঠান সেই কোচ। প্রথমে তাঁকে হোটেলের লবিতে ডেকে পাঠানো হয় এবং তারপরেই সেই অভিযোগকারিনীকে চাপ দিয়ে তিনি হোটেল রুমে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁকে ওই কোচ ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিযোগ দায়ের করে এবং তদন্তও শুরু হয়। ফরিদাবাদ পুলিশের মুখপাত্র যশপাল সিংহ জানান এই অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে সব পক্ষই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হোটেল এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অভিযুক্ত সেই কোচের নাম কি? তিনি ভারতীয় শ্যুটিং জগতের পরিচিত নাম অঙ্কুশ ভরদ্বাজ। এই অভিযোগের পরেই জাতীয় রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া অঙ্কুশ ভরদ্বাজকে নির্বাসিত করেন। ফেডারেশনের সচিব রাজীব ভাটিয়া এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জানান, 'NRAI ওরে নির্বাসিত করেছে এবং ওকে শো-কজ় নোটিসও পাঠাব আমরা। মানবিক দিক থেকে ওকে নির্বাসিত করা হয়েছে। ওকে এবার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ও কোনও ধরনের কোচিং ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত থাকবে না।'

Continues below advertisement

ওই অভিযোগকারিনী রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছরের অগাস্ট থেকে অঙ্কুশের কোচিংয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার শিকার হওয়ার পর বছর ঘুরতেই ১ লা জানুয়ারি সেই নাবালিকা নিজের মায়ের সামনে সবটা খুলে বলেন। তারপরেই অভিযোগ দায়ের করা হয়। অঙ্কুশ আর বিতর্কের সম্পর্ক কিন্তু নতুন নয়। পিস্তল শ্যুটার অঙ্কুশ অতীতে ২০১০ সালে বেটা ব্লকার ব্যবহার করায় তাঁকে ডোপিং ব্যান দেওয়া হয়। এরপরে প্রায় দেড় দশক পরে আবারও বিরাট বিতর্কের মুখে তিনি।