নয়াদিল্লি: ১৩ বছরের সম্পর্ক, জিতেছেন তিন তিনটি খেতাব। ২০২৩ সালের ফাইনাল জয়ের নায়কও তিনি। তবে রিপোর্ট যদি সত্যি হয়, তাহলে কিন্তু এবার রবীন্দ্র জাডেজা (Ravindra Jadeja) ও চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) সম্পর্ক ছিন্ন হতে চলেছে। ক্রমেই জোরাল হচ্ছে জল্পনা। রাজস্থান রয়্যালসের থেকে ট্রেডিয়ের মাধ্যমে সঞ্জু স্যামসনকে দলে নিচ্ছে চেন্নাই সুপার কিংস। পরিবর্তে জাডেজা এবং স্যাম কারান, দুই তারকা অলরাউন্ডার হলুদ ব্রিগেড থেকে রাজস্থানের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দিচ্ছেন। জাডেজা নাকি এই ট্রেডের জন্য জরুরি অনুমতিপত্রেও সই করে দিয়েছেন।
তবে রিপোর্ট এও দাবি করা হচ্ছে যে চেন্নাই সুপার কিংস প্রাথমিকভাবে জাডেজাকে ছাড়তে একেবারেই রাজি ছিল না। স্যামসনের রয়্যালস ছাড়ার খবর বহুদিন ধরেই সামনে যাচ্ছে। এই খবর সামনে আসতেই সর্বপ্রথম সিএসকের নামই এই ট্রেডিংয়ের সঙ্গে জড়ায়। তখনই শোনা গিয়েছিল পরিবর্তে জাডেজাকে দলে ফেরাতে আগ্রহী রয়্যালস। কিন্তু সিএসকে কেবল স্যাসমনের পরিবর্তে টাকা দিতেই আগ্রহী ছিল। হলুদ ব্রিগেড সহজে তাঁদের ক্রিকেটারদের ছাড়ে না বলেই সাধারণ ধারণা রয়েছে। আর সেই খেলোয়াড় যদি জাডেজার মতো দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হন, তাহলে তো কথাই নেই। তবে হঠাৎ কীভাবে মনবদল হল? এর নেপথ্যে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি (MS Dhoni)। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন।
ধোনির বয়স ৪৪ পেরিয়েছে। হালে হাঁটুর সমস্যাতেও ভুগছেন তিনি। এর ফলে আর আগের মতো উপরের দিকে কার্যত ব্যাট করতে দেখাই যায় না ধোনিকে। সেখানে স্যামসনকে ধোনির যোগ্য উত্তরসূরি হিসাবে মনে করছে হলুদ ব্রিগেড। পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা যখন এসেইছে, তখন তা হাতছাড়া করতে নারাজ সিএসকে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা নাকি যুক্তরাষ্ট্রে স্যামসনের সঙ্গে বৈঠকও সেরেছেন।
স্যামসনকে দল নিতে কার্যত বদ্ধপরিকর সিএসকে ম্যানেজমেন্ট। স্যামসন যেমন দলের ব্যাটিংয়ে শক্তি জোগান দেবেন, তেমনই তাঁর অধিনায়কত্বের দক্ষতাও বাড়তি বুস্ট জোগাবে। সেই কারণেই পরিস্থিতিবুঝে জাডেজাকে বাধ্য হয়েই ছাড়তে রাজি হয় সিএসকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, জাডেজা নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যর্থতাও কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা নিয়েছে। তাই অবশেষে এক যুগের অধিক সময়ের এক দীর্ঘ সম্পর্কের অবসান ঘটতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন যে দলের হয়ে তাঁর কেরিয়ার শুরু, প্রথম আইপিএল খেতাব জয়, সেই রাজস্থান রয়্যালসেই আবার কেরিয়ারের শেষভাগে রবীন্দ্র জাডেজার যোগ দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র।