মুম্বই: দেশে ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আচমকাই আইপিএল স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। আগামী সাতদিনের মধ্যে পরিস্থিতি না বদলালে হয়ত কবে টুর্নামেন্টে ফের শুরু করা হবে, তাও নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে এবার ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের তরফে আইপিএলে বাকি ম্য়াচগুলো আয়োজনের জন্য ইচ্ছেপ্রকাশ করা হল। 

গত ৮ তারিখ ধর্মশালায় পঞ্জাব বনাম দিল্লি ম্যাচের ফাঁকে আচমকাই লাইটি নিভে যায় স্টেডিয়ামের। ১০০ কিলোমিটার দূরে শিয়ালকোটে  বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কথা ভেবে তড়িঘড়ি খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। চারিদিক ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কড়া বেষ্টনীতে মুড়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয় ক্রিকেটার, সাপোর্ট স্টাফদের।  পরের দিনই সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর আইপিএল আগামী সাতদিনের জন্য স্থগিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের তরফে বাদবাকি ম্য়াচগুলো আয়োজনের বিষয়ে ইচ্ছেপ্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে সে দেশের ওয়েবসাইট ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের চিফ এক্সিকিউটিভ রিচার্ড গউড ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন। 

এর আগে ২০০৯ সালে প্রথমবার দেশের বাইরে আইপিএল আয়োজিত হয়েছিল। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকায় হয়েছিল এই মেগা টুর্নামেন্ট। ২০২০ ও ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আয়োজিত হয়েছিল আইপিএল। তবে এর আগে কখনও ইংল্যান্ডের মাটিতে এই টুর্নামেন্টে আয়োজিত হয়নি।

পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘাত-প্রত্যাঘাতের পালা চলছেই। ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ আগেই জানিয়েছিলেন যে অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। সেই মতোই পড়শি দেশে চলছে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংসের কাজ। তবে একই সঙ্গে অপরপ্রান্ত থেকেও আঘাত হানার সম্ভাবনা প্রবল। এমন যুদ্ধের আবহে চারিদিকেই সতর্কতা দেখা গিয়েছ। স্বাভাবিকভাবে ক্রিকেট খেলাটাও তাই সম্ভব নয়। গতকাল ধর্মশালায় পঞ্জাব কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচ বাতিলের জন্য বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে কাঠগড়ায় তোলা হলেও, সেটা যে সতর্কতা থেকেই তা কার্যত সকলেই জানেন। 

গতকালের ম্যাচ বাতিলের পরেই মেগা টুর্নামেন্টের আগামী ম্যাচগুলি ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগের সঞ্চার হয়েছিল। আইপিএলের চেয়ারম্যান আজকের লখনউ সুপার জায়ান্টস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচ নিয়ে অবশ্য গতকাল পিটিআইকে বলেছিলেন, 'এখন যেটুকু যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই অনুযায়ী ম্যাচটি খেলা হবে। তবে পরিস্থিতি প্রতিনিয়তই বদলাচ্ছে। ভারত সরকারের তরফে আমরা এখনও কোনও নির্দেশ পায়নি। তবে সবটা থাকা, খাওয়া সবকিছু ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'