গুয়াহাটি: কথায় আছে 'Lighting does not strike twice'। তবে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির (MS Dhoni) ক্ষেত্রে এই প্রবাদবাক্যটা একেবারেই মিথ্যে। বয়স ৪৩ পেরিয়েছে। তাঁর ব্যাটিং পজিশন নিয়েও জোর চর্চা। তবে উইকেটের পিছনে এখনও যে তাঁর ক্ষিপ্রতার জুড়ি মেলা ভার, তা বারংবার প্রমাণ করছেন মাহি। নাগাড়ে তৃতীয় ম্যাচে বিদ্যুৎবেগে স্টাম্পিং সারলেন সিএসকে মহাতারকা।

প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে সূর্যকুমার যাদব ও দ্বিতীয় ম্যাচে আরসিবির বিরুদ্ধে লিয়াম লিভিংস্টোন ধোনির স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। আজ গুয়াহাটিতে একই হাল হল রাজস্থানের (RR vs CSK) নীতীশ রানার (Nitish Rana)। আর অশ্বিনের (R Ashwin) বুদ্ধিদীপ্তি বোলিং এবং ধোনির বিদ্যুৎ গতির স্টাম্পিংয়ে শতরানের পথে এগিয়েও আটকে যেতে হল নীতীশ রানাকে। আর ধোনি-অশ্বিনের যুগলবন্দিতে দর্শকদের পুরনো দিনের স্মৃতি তাজা হল। ৩৬ বলে ৮১ রান করে রাজস্থানকে বিরাট রানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন নীতীশ রানা। তবে তিনি ক্রিজ ছেড়ে এগিয়ে আসতেই অফস্টাম্পের বাইরে ওয়াইড বল করেন অশ্বিন। বল বেশ খানিকটা দূরে হলেও ধোনি নিমেষেই তা দস্তানাবন্দি করে উইকেট ভেঙে দেন। 

ফের একবার এই স্টাম্পিংয়ের ক্ষিপ্রতা নেটিজেনদের মুগ্ধ, বিস্মিত করে। রানা আউট না হলে, কে জানে রাজস্থান হয়তো হেসেখেলে দু'শো রান করে ফেলত। তবে রিয়ান পরাগ বাদে রাজস্থান রয়্যালসের মিডল অর্ডারের কেউ তেমন রান না পওয়ায় দু'শো রানের গণ্ডি পার করা অধরাই রয়ে গেল। 

 

আজ টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সিএসকে অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। শুরুতে যশস্বী চার রানে আউট হলেও নীতীশ ব্য়াট করতে নেমেই বিধ্বংসী মেজাজে ব্যাটিং করা শুরু করেন। পাওয়ার প্লেতেই তিনি ৫৮ রান যোগ করেন। ২১ বলে পূরণ করেন অর্ধশতরান। সঞ্জু স্যামসন অবশ্য খুব বেশি রান করতে পারেননি। ২০ রানে তাঁকে ফেরান নুর। তড়তড়িয়ে শতরানের দিকে এগিয়ে যাওয়া নীতীশ রানাকে থামায় অশ্বিন ও ধোনি জুটি।

রিয়ান পরাগ ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন বটে, তবে হাসারাঙ্গা, ধ্রুব জুরেলরা রান পাননি। শিমরন হেটমায়ার খানিক চেষ্টা করছিলেন বটে, তবে তাঁর ইনিংসও ১৯ রানে থামে। দুরন্ত ফিল্ডিংয়ে পরপর উইকেট তুলে নেয় সিএসকে। শেষ ছয় ওভারে ৪২ রানের বিনিময়ে পাঁচ উইকেট হারায় রাজস্থান। ফলে রাজস্থানের দু'শো আর হল না। সিএসকের হয়ে খলিল আমেদ ও নুর আমেদ দুইটি করে উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন।