নয়াদিল্লি: বিহারের থেকে উঠে এসে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়েছেন, এমন উদাহরণ খুঁজতে গেলেও পাওয়া মুশকিল। তবে সেই বিহারের ক্রিকেটকেই এক রাতে ভারতের মানচিত্রে তুলে ধরল এক তরুণ তুর্কি, বৈভব সূর্যবংশী (Vaibhav Sooryavanshi)। আইপিএলে (IPL 2025) রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে (RR vs GT) এক অনবদ্য শতরান হাঁকাল সে। ১৪ বছর বয়সি বৈভবের আইপিএলের মতো মঞ্চে সেঞ্চুরি হাঁকানো দেখে বিস্মিত, উচ্ছ্বসিত গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। তার নিজের অনবদ্য এই ইনিংসের জন্য চারিদিক থেকে প্রশংসা তো ভেসে আসছেই, এবার এল আর্থিক পুরস্কারও।

এর আগে মহেন্দ্র সিংহ ধোনি বিহারের হয়ে রঞ্জি খেলেছিলেন। তবে তিনি পরবর্তীতে নতুন রাজ্য ঝাড়খণ্ডে স্থানান্তরিত হয়। তাঁর পরিচিতি মূলত ঝাড়খণ্ডের তারকা হিসাবেই। বিহারের ক্রিকেটে সেই অর্থে কোনওদিন কোনও মেগাতারকার আগমন দেখা যায়নি। তবে সেই ছবিটা সম্পূর্ণভাবে বদলে ফেলতে পারে বৈভব। এই কথা মাথায় রেখেই হয়তো বৈভবকে তার অগ্রগতির জন্য সমস্ত সাহায্য করতে তৎপর বিহার ক্রিকেট সংস্থা। এবার আইপিএলে তার সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও (Nitish Kumar)। 

বৈভবকে তার অনবদ্য, ঐতিহাসিক শতরানের জন্য নীতীশ শুভেচ্ছা তো জানানই, পাশাপাশি তাঁকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় নীতীশ জানান গতকালই তাঁর সঙ্গে বৈভবের কথা হয়েছে। তিনি লেখেন, 'বিহারের বৈভব সূর্যবংশীকে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসাবে আইপিএলে শতরান করার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রতিভা এবং পরিশ্রমের ভিত্তিতে ও ভারতীয় ক্রিকেটের বড় আশার জায়গা হয়ে উঠেছে। আমরা সকলেই ওর জন্য গর্বিত। গত বছর ওর আর ওর বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলাম আমি, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। আর কাল আইপিএলে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ফোনে ওকে শুভেচ্ছা জানাই।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'বিহারের তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীকে সরকারের তরফে ১০ লক্ষ টাকার একটি সাম্মানিকও দেওয়া হবে। আমি আশা করি যে ভবিষ্যতে ভারতীয় দলের জন্যও ও নতুন নতুন রেকর্ড গড়বে এবং দেশকে অনেক সাফল্য এনে দেবে।' 

 

বিহারের সমস্তিপুরের বাসিন্দা বৈভবের ৩৫ বলে দ্রুততম ভারতীয় ব্যাটার হিসাবে আইপিএলে সেঞ্চুরি যে তাকে রাতারাতি খ্যাতির শিরোনামে পৌঁছে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এবার আসন্ন দিনে সে এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পারে কি না, সেটাই দেখার বিষয় হতে চলেছে।