চণ্ডীগড়: বিরাট, দেবদত্তর দুরন্ত অর্ধশতরান, পঞ্জাবের ঘরের মাঠেই মধুর প্রতিশোধ আরসিবির। ৭ উইকেটে শ্রেয়স আইয়ারের দলকে হারিয়ে দিল রজত পাতিদারের (Rajat Patidar) দল। তিনদিন আগেই চিন্নাস্বামীতে লজ্জার হার হারতে হয়েছিল। চাহাল, ইয়েনসেনদের সামনে কোনও আরসিবির ব্যাটারই রান করতে পারেননি সেদিন। এদিন অবশ্য শুধু ব্যাটিং বিভাগ নয়, বোলিং বিভাগও চাপে রেখেছিল শ্রেয়সদের। বল হাতে সুয়াশ, ক্রুণালদের ছাপ রেখে যাওয়া মঞ্চে কিং কোহলির দুরন্ত অপরাজিত অর্ধশতরান। রান পেলেন দেবদত্ত পড়িক্কলও। ১৫৮ রান তাড়া করতে নেমে ৭ বল বাকি থাকতেই ম্য়াচ জিতে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
১৫৮ রানের লক্ষ্য়মাত্রা তাড়া করতে নেমেছিল রয়্য়াল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এদিন অবশ্য রান পাননি ফিল সল্ট। মাত্র ১ রান করেই ফিরে যান অর্শদীপ সিংহের বলে ইংল্য়ান্ডের উইকেট কিপার ব্য়াটার। এরপর দেবদত্ত পড়িক্কল ও বিরাট কোহলি মিলে দলের জয়ের পথ সুগম করে তোলার চেষ্টা করতে থাকেন। কোহলি শুরুতে একটু ধীরে ধীরে খেললেও দেবদত্ত চালিয়ে খেলছিলেন। তিনি ৫টি বাউন্ডারি ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে ৩৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন বাঁহাতি দেবদত্ত। আগের দিন চাহাল একাই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন আরসিবি ব্যাটারদের সামনে। এমনকী তার আগে কেকেআরের বিরুদ্ধে ম্য়াচেও নায়ক ছিলেন তিনিই। এদিন নিজের ৪ ওভারের স্পেলে ৩৬ রান খরচ করলেও ১ উইকেট নেন তিনি।
দেবদত্ত আউট হওয়ার পর বিরাট কোহলি হাত খোলা শুরু করেন। ৫৪ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলেন অপরাজিত থেকে যান তিনি। ৭টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে উঠে এল আরসিবি।
এর আগে এদিন, টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার। পঞ্জাবের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন ২ তরুণ প্রভসিমরন ও প্রিয়াংশ। দুজনেই চালিয়ে খেলা শুরু করেছিলেন। মাত্র ৪ ওভারেই ৪১ রান বোর্ডে তুলে নিয়েছিল পঞ্জাব। তবে এরপরই ৪.২ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় পঞ্জাব। ক্রুণাল পাণ্ড্যকে আক্রমণে নিয়ে আসেন রজত পাতিদার। আর বঢোদরা অলরাউন্ডার এসেই উইকেট তুলে নেন। ৩টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১৫ বলে ২২ রান করে প্রিয়াংশ টিম ডেভিডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। পাওয়ার প্লে-তে ৬০ রান বোর্ডে তুলে নেওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেট হারায় পঞ্জাব। ফের ক্রুণালের বল আর ফের ডেভিডের হাতে ক্যাচ। এবার প্রভসিমরন ফিরলেন ১৭ বলে ৩৩ রান। শ্রেয়স আইয়ার এদিন রান পাননি। লিভিংস্টোনের পরিবর্তে আরসিবি একাদশে খেলা শেফার্ডের বলে ৬ রান করে আউট হয়ে ফেরেন পঞ্জাব অধিনায়ক। নেহাল ওয়াধেরা ও মার্কাস স্টোইনিস এদিন রান পাননি। একটা সময় মনে হচ্ছিল যে পঞ্জাবের রানের গতি এতই কমে গিয়েছে যে আদৌ দেড়শো রানের গণ্ডিও তারা পেরতে পারবে কি না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শশাঙ্ক সিংহ ও মার্কো ইয়েনসেন মিলে দেড়শোর গণ্ডি পার করিয়ে দেন পঞ্জাবের। শশাঙ্ক ৩১ রানে ও ইয়েনসেন ২৫ রানের অপরাজিত থাকেন।