কলকাতা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে প্রথম ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। বৃষ্টিতে ভেস্তে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম জিম্বাবোয়ের ম্যাচ। বিরাট কোহলির ছক্কার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হার্দিক পাণ্ড্য। খেলার দুনিয়ায় সারাদিন কী হল।
বাংলাদেশের জয়
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ১২তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল বাংলাদেশ। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ৯ রানে ম্যাচ জয় শাকিব আল হাসানের দলের। বল হাতে দুরন্ত তাসকিন আহমেদ। একাই তুলে নিলেন ৪ উইকেট।
শীতের আবহ, মেঘলা আকাশ। টস জিতে এদিন স্বাভাবিকভাবেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। বাংলাদেশ এদিন ৮ ব্যাটার নিয়ে মাঠে নেমেছিল। ওপেনে নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার নেমেছিলেন। কিন্তু ২ জনের কেউই বড় রান পাননি। সৌম্য ২৫ রান করেন। শান্ত ১৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। লিটন দাস ও অধিনায়ক শাকিব আল হাসান যথাক্রমে ৯ ও ৭ রান করেন। মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন। লোয়ার অর্ডারে মোসাদ্দেক হোসেন ২০ রান করেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানই বোর্ডে তুলতে সক্ষম হয়।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত ব্য়বধানে উইকেট হারাতে থাকে নেদারল্যান্ডস। ইনিংসের প্রথম ২ বলেই পরপর ২ উইকেট নিয়ে নেন তাসকিন। শুরুতেই যে ভাঙন তিনি ধরান ডাচ ব্যাটিং লাইন আপে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি তারা। দলের হয়ে অর্ধশতরান হাঁকান কলিন আকারম্যান। ৬২ রানের ইনিংস খেললেও তা কোনও কাজে আসেনি।
বৃষ্টির কোপ
বৃষ্টির ভ্রুকুটি থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ভার-পাকিস্তান ম্যাচ পুরোটাই খেলা হয়েছিল। কিন্তু মেলবোর্ন রক্ষা করলেও, হোবার্টে বাদ সাধল প্রকৃতি। কপাল পুড়ল দক্ষিণ আফ্রিকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে কার্যত জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হল প্রোটিয়াদের। দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিতে বাধ্য হলেন তেম্বা বাভুমারা।
কাটা ঘায়ে নুন
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে (T20 World Cup) পাকিস্তান-বধের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় বইয়ে দিয়েছেন বীরেন্দ্র সহবাগ (Virender Sehwag) ও হরভজন সিংহ (Harbhajan Singh)। সহবাগ একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। যে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের এক সমর্থক মেলবোর্নের শেষ বলে ভারতের জয় নিশ্চিত হয়ে যেতেই টিভিতে লাথি মেরে ভেঙে ফেলছেন।
সহবাগ যে ভিডিওটি শেয়ার করে খোঁচা দিয়ে লিখেছেন, 'আমরা তো দীপাবলিতে বাজি ফাটাই। আপনারা টিভি ফাটাচ্ছেন। শান্ত হোন প্রতিবেশীরা। কোনও কারণ ছাড়াই টিভি ভাঙলেন। আরে না বন্ধু, টিভির কী দোষ'।
সহবাগের সেই ভিডিও রিট্যুইট করেছেন ভাজ্জি। সঙ্গে লিখেছেন, 'লোকে আতসবাজি ফাটায়, এই ভদ্রলোক টিভি ফাটাচ্ছেন'।
বিরাট-মুগ্ধতা
শেষ ২ ওভারে ভারতের তখনও ম্যাচ জিততে বাকি ছিল ৩১ রান। বোলার ছিলেন হ্যারিস রউফ। যিনি তার আগে পর্যন্ত বল হাতে দুরন্ত ছন্দে ছিলেন।
১৯তম ওভারের শেষ দুই বলে রউফকে পরপর দুটি ছক্কা মারেন বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ভারতীয় শিবির বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, পাকিস্তানকে হারিয়ে এই ম্যাচ জেতা সম্ভব।
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে পাকিস্তানকে ৪ উইকেটে হারানোর পর কোহলিকে নিয়ে জয়োধ্বনি। সতীর্থ হার্দিক পাণ্ড্য কোহলিকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। বলেই দিলেন যে, রউফকে ওইরকম ছক্কা একমাত্র কোহলিই মারতে পারেন।
বোর্ডের ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হার্দিক বলেছেন, 'আমি খুব খুঁটিয়ে দেখেছি ওই দুটো শট। আমি নিজে প্রচুর ছক্কা মেরেছি। তবে ওই দুটো ভীষণ স্পেশ্যাল। আমরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি এত ক্রিকেট খেলেছি, এরকম ছক্কা মারিনি। মনে হয় না মিস্টার কোহলি ছাড়া কেউ ওরকম ছক্কা মারতে পারত।'
দ্রাবিড়ের আলিঙ্গন
ম্যাচ জিতিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছিলেন বিরাট। সেই সময় লনে রাহুল দ্রাবিড় এসে তাঁর সঙ্গে আলিঙ্গন করেন। কোহলি তাঁর মাথা রাখেন কোচের বুখে। সোশাল মিডিয়ায় এই ছবি ভাইরাল হতেই মন জিতে নিয়েছে এই ক্লিপিংস। লনে দ্রাবিড় ছাড়াও ছিলেন মহম্মদ শামি, কে এল রাহুল, যুজবেন্দ্র চাহাল। প্রত্যেকেই জড়িয়ে ধরে অভিবাদন জানান বিরাটকে। অস্ট্রেলিয়ার মাঠ বরবারই বিরাটের জন্য পয়া। এদিন আরও একবার তা বুঝিয়ে দিলেন কিং কোহলি।