বড় মঞ্চের জন্য বরাবর নিজের সেরাটা বাঁচিয়ে রাখার অভ্যাস বরুণ চক্রবর্তীর। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এ তিনি ছিলেন ভারতের সর্বাধিক উইকেট-শিকারি। তাঁর ঝুলিতে এসেছিল ৯টি উইকেট। তারপর এশিয়া কাপেও সাফল্য। ৭টি উইকেট তুলে নেন তিনি। এহেন 'মিস্ট্রি স্পিনার' শেয়ার করলেন, যে কোনও টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেমন থাকে তাঁর ব্যক্তিগত সত্ত্বা। 'Breakfast with Champions'-এ তিনি বলেন, "শুরুটা আমি খুব খারাপ করি। যখনই কোনও নতুন টুর্নামেন্ট শুরু হতে যায়, আমি খুব খারাপভাবে শুরু করি। আমি সারারাত কাঁদি। আমার ব্যাপারটা অনেকটা হয়, 'আগামীকাল কী হবে ? জানি না, কী হতে চলেছে।' প্রত্যেকটা টুর্নামেন্টে এমনটা হয়। এই এশিয়া কাপেও তাই হয়েছিল।" সম্প্রতি, তৃতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে আইসিসি-র টি২০ বোলিং(পুরুষ) ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছেন বরুণ। এশিয়া কাপে দেশের হয়ে প্রথম দু'টি ম্যাচে ভাল ফলের হাত ধরে এই সাফল্য। যদিও তিনি বলছেন, "আমি এখন দাবা দেখি। গুকেশ যখন চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন, উনি বলেছিলেন, 'আমি এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারি, কিন্তু সকলেই জানেন ম্যাগনাস কার্লসেন এক নম্বর খেলোয়াড়।' সেরকমই আমি এক নম্বর হতে পারি, কিন্তু এক নম্বর সবসময় জশপ্রীত বুমরা। এছাড়া রয়েছেন সুনীল নারায়ণ, রশিদ খান। আমি ভাল করছি, কিন্তু আমার এখনও মঞ্চে পৌঁছাতে সময় লাগবে।"  

Continues below advertisement

দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বরুণ। ৩০ রানে ২টি উইকেট তুলে নেন তিনি। যার জেরে ১ উইকেটে ১১৩ রান থেকে ১৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। তাঁর তোলা ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামানের উইকেট ম্যাচকে ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। 

কিন্তু ম্যাচ-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে মাঠের জয় জটিল হয়ে ওঠে। ভারত এসিসি চেয়ারম্যান এবং পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা চলে যান এবং ভারতীয় খেলোয়াড়রা তাঁদের মাঝখানে একটি কাল্পনিক ট্রফি নিয়ে উদযাপন করেন। এই ঘটনার পর চক্রবর্তী একই রকম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানান। সোশাল মিডিয়ায়, তিনি ট্রফির পরিবর্তে একটি সাধারণ চায়ের কাপ ধরে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, ক্যাপশনে লেখেন: "আখ্খা দুনিয়া এক তরফ, অউর মেরা ইন্ডিয়া এক তরফ। জয় হিন্দ !!!"

Continues below advertisement