মিয়ামি: এটিপি মাস্টার্স ১০০০-র প্রবীণতম সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে নজির গড়লেন নোভাক জকোভিচ। টেক্কা দিয়ে দিলেন আরেক টেনিস কিংবদন্তি রজার ফেডেরারকে। কোয়ার্টার ফাইনালে জোকার হারিয়ে দিলেন সেবাস্তিয়ান করডাকে। খেলার ফল জোকারের পক্ষে ৬-৩, ৭-৬ (৪)। ৩৭ বছর ১০ মাস বয়সে এই নজির গড়ে ফেললেন জোকার। ২০১৯ সালে এই মিয়ামি ওপেনের শেষ চারে পৌঁছেছিলেন রজার ফেডেরার। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩৭ বছর ৭ মাস। এতদিন সবচেয়ে বেশি বয়সে এই শেষ চারে পৌঁছনোর নজির ছিল সুইস টেনিস সম্রাটের দখলেই। কিন্তু এবার ফেডেরারের রেকর্ডও ভেঙে দিলেন জোকার। 

এই নিয়ে নিজের টেনিস কেরিয়ারে অষ্টমবার মিয়ামি ওপেনের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন জোকার। শেষ চারের লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের ১৪ তম বাছাই গ্রিগর দিমিত্রভের বিরুদ্ধে খেলতে নামবেন। এটিপি মাস্টার্সে দিমিত্রভের বিরুদ্ধে মুখোমুখি মহারণে জোকার ১২-১ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। 

 

বয়স আটত্রিশের দোরগোড়ায়। কিন্তু এখনও খিদে কমেনি জোকারের। গত অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে চোটের জন্য ছিটকে গিয়েছিলেন। তবে অবসরের ভাবনা চিন্তা এখনও নেই। আরও কয়েকটি গ্র্যান্ডস্লাম ঝুলিতে পুরতে চান সার্বিয়ান টেনিস তারকা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে ছিটকে যাওয়ার পর জকোভিচ বলেন, ''আমি আরও গ্র্যান্ডস্ল্যাম জেতার জন্য চেষ্টা এখনও চালিয়ে যাব। অস্ট্রেলিয়া সবসময় আমার মগজে এবং আমার হৃদয়ে থাকবে। আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো স্ল্যামে খেলেছি, নৈপুণ্য দেখিয়েছি তার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনই সবচেয়ে সেরা। এখানে বছরের পর বছর ধরে জমা হওয়া অবিশ্বাস্য স্মৃতি, অর্জন ও কৃতিত্বগুলো কেবল আজকের এই অবসরের জন্য ভুলে যেতে পারব না।''

সেমিফাইনালে জোকারের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ওয়াক ওভার পেয়েছিলেন আলেকজান্ডার জেভেরেভ। ম্য়াচে ওয়াক ওভার পাওয়ার পর জেভরেভ বলেন, ''নোভাক জকোভিচ এমন একজন টেনিস প্লেয়ার, যিনি গত ২০ বছর ধরে এই খেলাটার জন্য জীবনের সবকিছু দিয়েছেন। এর আগেও তলপেটের ব্যথা নিয়ে, বা পেশির ব্যথা নিয়েও টুর্নামেন্টে জিতেছেন জোকার। তাই যদি সে সত্যিই কোনও ম্য়াচে আর খেলতে না পারেন। তার মানে বুঝতে হবে, কতটা ব্যথা নিয়ে খেলছিলেন তিনি। সত্যিই হয়ত তাঁর পক্ষে খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হত না আর।''