নয়াদিল্লি: হরিণে টানা স্লেজ গাড়ি তাঁর বাহন। সড়কপথে ছুটতে পারে সেই গাড়ি। আবার উড়তে পারে আকাশেও। সান্তা ক্লজের উড়ন্ত স্লেজ গাড়ি এখন বাস্তবের মাটিতেও। এই অসাধ্য সাধন করে দেখাল আমেরিকার সংস্থা Alef Aeronautics. নিজেদের তৈরি উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ সামনে আনল তারা, যা দেখে চমকে গিয়েছেন সকলে। স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখে উডডে বেড়ানো এখন সময়ের অপেক্ষা হলে মনে করছেন সকলে। (Flying Car)


Alef Aeronautics নিজেদের তৈরি উড়ন্ত গাড়ি Model Zero সকলের সামনে তুলে ধরেছে। আর তাতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির দুনিয়ায় বিবর্তন ঘটতে চলেছে। কারণ যে প্রোটোটাইপ সামনে আনা হয়েছে, তাতে বিমানের মতো কোনও ডানা নেই। বরং গাড়িটি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে রাস্তায় ছুটতে ছুটতে মাটি ছেড়ে শূন্যে উড়ে যেতে পারে গাড়িটি। ( Alef Aeronautics Model Zero Car)


গাড়িটিতে আটটি Rotor বসানো রয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রয়েছে সেগুলির।  গাড়ির নকশা যেমন একেবারে আলাদা, তেমনই এর কার্যকারিতাও। গাড়িটির গঠন একেবারে হালকা। সারা গায়ে যেমন জাল বসানো রয়েছে। আসলে সেখান দিয়ে বায়ু চলাচল করে। ফলে ওড়ার সময় গাড়িটির শক্তি বেড়ে যায় আরও। গাড়িটির পরীক্ষামূলক উড়ান সফল হয়েছে।  শীঘ্রই সেটি বাজারে চলে আসবে। 



২০২৩ সালেই আমেরিকার ফেডারেল এভিেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছ থেকে সার্টিফিকেট পেয়ে যায় গাড়িটি। এই মুহূর্তে গাড়িটিকে বাজারে আনার প্রস্তুতি চলছে। জানা গিয়েছে, সড়কপথে দৌড়নোর সময় গাড়িটির রেঞ্জ ২০০ মাইল, শূন্যে ওড়ার সময় ১০০ মাইল। আপাতত ৩০ হাজার ডলারে অগ্রিম বুক করা যাবে গাড়ি, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা। তবে আমেরিকার বাইরে অন্য দেশে ওই গাড়ির পরিষেবা চালু করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। নিরাপত্তা-সহ অন্যদিকগুলি খতিয়ে দেখা হবে সেক্ষেত্রে।


এই উড়ন্ত গাড়িতে বৈদ্যুতিক প্রপালসন সিস্টেম থাকছে। এই মুহূর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর বিশেষ করে জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যন্ত্রমেধা প্রযুক্তিও গাড়িতে থাকবে বলে খবর।  নেভিগেশন থেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সবকিছু AI দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হবে বলে জানা যাচ্ছে। কল্পবিজ্ঞানে বার বার উড়ন্ত গাড়ির উল্লেখ উঠে এলেও, এখনও পর্যন্ত বাস্তবে সেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় সম্ভব হয়নি সাধারণ মানুষের। তবে উড়ন্ত গাড়ি তৈরি করা সম্ভব হলেও, বর্তমানে সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা যে জায়গায়, তাতে চাইলেই ওই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়া যাবে কি না, সেই নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। ওই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বেরনোর আগে উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।