নয়াদিল্লি: যন্ত্রমেধা তথা AI-এর বাড়বাড়ন্তে আসল নকলের ফারাক বোঝাই দুষ্কর হয়ে উঠেছে। সেই নিয়ে এবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার। AI দিয়ে তৈরি সমস্ত Deepfake কনটেন্ট আজই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় AI কনটেন্টগুলিকে স্পষ্টরূপে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা হবে বলেও নির্দেশ দিল কেন্দ্র। (AI Content Rules)

Continues below advertisement

মঙ্গলবার কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের তরফে এই খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ডিপফেক ভিডিও, কৃত্রিম অডিও, বিকৃত করা দৃশ্যপট, সবের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। সেই সঙ্গে মেটাডেটা এবং ইউনিক আইডেন্টিফায়ার্সও থাকতে হবে, যাতে কোথা থেকে সেটির আগমন ঘটেছে, তা বের করা যায়। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের আওতায় সংশোধিত এই নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে। (New Social Media Rules)

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য নয়া সংশোধিত নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, AI ব্যবহার করে তৈরি সব কনটেন্ট যাতে চিহ্নিত করা যায়, তেমন ‘লেবেল’ থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের উপর। কৃত্রিম কনটেন্ট হলে তার ‘চিহ্নিতকরণ বার্তা’ (Embedded Identifiers) থাকতে হবে অবশ্যই।

Continues below advertisement

এদিন সংশোধিত নির্দেশিকা প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে তিন ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র, যা আগে ৩৬ ঘণ্টা ছিল। বলা হয়, সরকার অথবা আদালত যেমন নির্দেশ দেবে, সেই মতো তিন ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত AI দিয়ে তৈরি Deepfake কনটেন্ট সরিয়ে নিতে হবে। একবার কোনও কনটেন্টের উপর AI লেবেল বা ‘চিহ্নিতকরণ বার্তা’ বসানো হলে, তা আর তুলেও নেওয়া যাবে না, আড়াল করাও যাবে না।

কেন্দ্র জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলিকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যার মাধ্যমে AI ব্যবহার করে তৈরি বেআইনি, যৌনতাপূর্ণ বা প্রতারণামূলক কনটেন্ট শনাক্ত করতে হবে এবং তার প্রচার আটকাতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে, AI-এর অপব্যবহার করলে,তার পরিণতি কী হতে পারে, প্রতি তিন  মাসে একবার অন্তত গ্রাহককে তার গুরুত্ব বোঝাতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। নিয়ম-নীতি, গোপনীয়তা রক্ষা নীতি, চুক্তি বা অন্য কোনও মাধ্যমকে ব্য়বহার করা যেতে পারে এক্ষেত্রে। 

কনটেন্ট তৈরি, প্রচার, আপলোডিং, পাবলিশিং, ট্রান্সমিটিং, স্টোরিং, আপডেটিং, শেয়ারিং, জেনারেশন, মডিফিকেশন, অলটারেশনের ক্ষেত্রে কোথাও যদি নিয়মের লঙ্ঘন চোখে পড়ে, যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে উপযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কেউ ওই ধরনের কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরি, প্রচার, পোস্ট বা শেয়ার করতে না পারে। কারণ তাতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন তো বটেই, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৪৫, POCSO আইনের ৩২ ধারা এবং এক্সপ্লোসিভ সাবস্ট্যান্সেস আইনের ২ নম্বর ধারা লঙ্ঘিত হবে। অর্থাৎ ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে AI কনটেন্ট পোস্ট করতে গেলে, সেটিকে প্রকাশ্যে সেই মর্মে ঘোষণা বাধ্যতামূলক যেমন, তেমনই  সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকেও সেই ঘোষণা যাচাই করে দেখতে হবে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ইতিমধ্যেই এমন ব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে, যেখানে কোনও কনটেন্ট AI দ্বারা তৈরি কি না বা AI ব্যবহার করে কোনও রকমের পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করা যায়।