শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, এই ৯ লক্ষণ জানান দেয় মহিলাদের

Published by: ABP Ananda

১. অনিয়মিত ঋতুস্রাব

অনিয়মিত ঋতুস্রাব, ঋতুস্রাব বিলম্বিত হওয়া, অথবা অস্বাভাবিক ভারী স্রাব প্রায়শই হরমোনের ভারসাম্যহীনতার দিকে ইঙ্গিত করে। আপনার মাসিক চক্রের এই ব্যাঘাতগুলি সাধারণত ইস্ট্রোজেন বা প্রোজেস্টেরনের মাত্রার ওঠানামার কারণে ঘটে।

২. একটানা ক্লান্তি

দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি থাইরয়েড হরমোন বা কর্টিসলের ভারসাম্যহীনতা থেকে হতে পারে। এটি আপনার শক্তি এবং স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। আপনি যদি সারা রাত ঘুমানোর পরেও ক্লান্ত বোধ করেন তবে এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দিতে পারে।

৩. হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস

ওজনের হঠাৎ পরিবর্তন থাইরয়েড এর সমস্যা, ইনসুলিন প্রতিরোধ অথবা ইস্ট্রোজেন এর আধিক্য নির্দেশ করতে পারে। বিশেষ করে পেট অথবা উরুর আশেপাশে এটা নজরে আসে। আপনার খাদ্যাভ্যাস অপরিবর্তিত থাকলেও ওজনের উপরে নজরে রাখুন।

৪. ঘন ঘন মেজাজ বদল

ঘন ঘন মেজাজের পরিবর্তন, বিরক্তি বা উদ্বেগ ইস্ট্রোজেন প্রোজেস্টেরন বা কর্টিসোলের ভারসাম্যহীনতা নির্দেশ করতে পারে। এটি মস্তিষ্কের রাসায়নিক গঠন এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে।

৫. ব্রণ অথবা তৈলাক্ত ত্বক

আপনার কৈশোর পেরিয়ে যাওয়া বয়সে ত্বকে ব্রণ, বিশেষ করে চোয়াল বা থুতনির আশেপাশে, উচ্চ অ্যান্ড্রোজেন স্তরের সাথে যুক্ত হতে পারে। এটি পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS)-এর মতো হরমোনের ভারসাম্যহীনতার একটি অত্যন্ত সাধারণ লক্ষণ।

৬. চুল পড়া বা চুলের পাতলা হওয়া

অতিরিক্ত চুল পড়া থাইরয়েডের দুর্বলতা, উচ্চ টেস্টোস্টেরন বা ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্যহীনতার একটি প্রধান লক্ষণ। লোকেরা সাধারণত এটিকে স্ট্রেস-সম্পর্কিত হিসাবে বিবেচনা করে, তবে এটি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

৭. অনিদ্রা

প্রজেস্টেরন এবং কর্টিসল হল হরমোন যা আপনার ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আপনি যদি ঘুমোতে সমস্যা অনুভব করেন বা ঘুমিয়ে থাকতে সমস্যা হয়, অথবা ঘুম থেকে ওঠার পরে ক্লান্ত বোধ করেন, তাহলে এর অর্থ হতে পারে আপনার হরমোনের ঘড়ি ঠিক নেই।

৮. পরিপাক সমস্যা

হরমোনের ওঠানামা কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা বা অনিয়মিত হজমের কারণ হতে পারে। ইস্ট্রোজেন এবং কর্টিসলের মাত্রার ভারসাম্যহীনতা অন্ত্রের কার্যকারিতা এবং হজম স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে।

৯. হঠাৎ গরম হলকা অনুভূতি

ইস্ট্রোজেনের ওঠানামা মেনোপজের আগেও হঠাৎ গরম অনুভব করাতে পারে। রাতের বেলা অতিরিক্ত ঘাম বা সাময়িক সংবেদনশীলতা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা নির্দেশ করতে পারে।