8th Pay Commission News Update : অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) বাস্তবায়নের দিন নিয়ে জল্পনা শেষ হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধি (Salary News) নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। এরমধ্যেই প্রকাশ্য়ে এল নতুন খবর। শোনা যাচ্ছে, কর্মী ইউনিয়নগুলির অনেক দাবি মেনে নেওয়া সরকারের পক্ষে কঠিন হবে। যে কারণে বিপুল বেতন বৃদ্ধি নাও হতে পারে অষ্টম বেতন কমিশনে।
৬৯,০০০ টাকা মূল বেতন কি হবে না ?সম্প্রতি অষ্টম বেতন কমিশনে স্য়ালারি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক পরামর্শ দিয়েছে কর্মী ইউনিয়নগুলি। যা নিয়ে কমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে সংগঠনগুলি। যেখানে জায়গা পেয়েছে, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর , মহার্ঘ ভাতা (DA) মূল বেতনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার বিষয়গুলি। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর বলছে, ইতিমধ্যেই সব দাবি যে মানা সরকাররে পক্ষে সম্ভব হবে না, তা মেনে নিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলিও। এর পিছনে রয়েছে বেশকিছু যু্ক্তি।
কেন সব দাবি মানা সম্ভব নয়কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবারের পে কমিশন শুধুমাত্র বেতন বৃদ্ধির জায়গা নয়, এই বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত দীর্ঘমেয়াদি পেনশনের দায়বদ্ধতা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখার মতো বিষয়গুলিও। এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কোন কোন জায়গায় সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি আসতে পারে।
১ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি হবে কী ?অষ্টম বেতন কমিশনে কর্মী ইউনিয়নগুলির অন্যতম প্রধান দাবি হল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩.৮৩ করতে বলছে ইউনিয়নগুলি। তাদের যুক্তি, বিগত বছরগুলিতে মূল্যবৃ্দ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে বেতনের যে প্রকৃত মূল্যহ্রাস হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করতে এই বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর আসলে কী ?পে কমিশনের অধীনে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ বা বৃদ্ধির জন্য যে গুণক ব্যবহার করা হয়, তাকে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বলে। এটি যত বেশি হবে, কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন ও ভাতা তত বেশি বাড়বে। ইউনিয়ন নেতার মতে, সরকার এই দাবি পুরোপুরি নও মানতে পারে। কারণ, কেন্দ্রের আর্থিক দায়বদ্ধতা কেবল সরকারি কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই বিপুল বেতন বৃদ্ধির একটি ধারাবাহিক প্রভাব রয়েছে। কেন্দ্রের দেখাদেখি রাজ্য সরকারগুলিকেও পরবর্তীতে বেতন বাড়াতে হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পেনশন এবং অবসরকালীন দায়বদ্ধতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। তাই সরকার শেষ পর্যন্ত একটি মধ্যপন্থা বা মাঝারি মানের ফর্মুলা বেছে নিতে পারে।
২ পাঁচ জনের ফ্যামিলি ধরা হবে বেতন বৃদ্ধির সূত্রে ?তবে বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য সংখ্যার ফর্মুলা ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ জন করার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি। আগে থেকেই সরকারি কর্মচারীদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই ‘ফ্যামিলি ইউনিট’ ফর্মুলা ব্যবহার করা হত। এবার যা ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ কারার কথা বলেছে সংগঠনগুলি। তাদের দাবি, আজকের দিনে একজন কর্মচারীকে শুধু স্ত্রী বা সন্তান নয়, বৃদ্ধ বাবা-মা এবং তাদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের বিপুল খরচও বহন করতে হয়। ফলে এই দাবিটি সরাসরি বর্তমান বাজারের জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে যুক্ত। তাই পাঁচ সদস্যের ভিত্তিতেই এই বিষয়টি গণ্য করা হোক।
৩ পুরোনো পেনশন স্কিম রি ফিরবে ?অষ্টম পে কমিশনের আলোচনায় সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা হল পুরোনো পেনশন স্কিম (Old Pension Scheme) ফিরিয়ে আনার দাবি। অল ইন্ডিয়া ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AINPSEF)-এর মতো সংগঠনগুলির দাবি—নতুন ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS) বাজার-নির্ভর হওয়ায় অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। ওপিএস-এ যেখানে শেষ বেতনের ৫০% এবং সঙ্গে ডিএ নিশ্চিত পেনশন হিসেবে পাওয়া যেত, এনপিএস-এ তা অনিশ্চিত।
তবে ইউনিয়ন প্রতিনিধি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এত বছর কার্যকর থাকার পর এনপিএস-কে পুরোপুরি উপড়ে ফেলা এখন বাস্তবসম্মতভাবে অত্যন্ত কঠিন। কারণ, বহু বছর ধরে কর্মচারী ও সরকারের জমা করা টাকা এই আর্থিক ব্যবস্থার সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। এমনকি সরকারের প্রস্তাবিত ইউনিফাইড পেনশন স্কিম (UPS)-এর অধীনে দেওয়া ১৮.৫% অবদানও দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা আর্থিক দিক থেকে কঠিন হতে পারে।
তাই এখন অনেক ইউনিয়ন সম্পূর্ণ ওপিএস চালুর গোঁ ধরা ছেড়ে "ওপিএস-এর মতো সুরক্ষা" পাওয়ার দিকে বেশি জোর দিচ্ছে। যেমন, নিশ্চিত পেনশন নিরাপত্তা, ডিএ-সংযুক্ত পেনশন এবং ন্যূনতম পেনশনের নিশ্চয়তা।
৪ আর্থিক ঘাটতি বাড়তে পারেবেতন ও পেনশনে অতিরিক্ত ব্যয়বৃদ্ধি দেশের আর্থিক ঘাটতি বাড়াতে পারে। অষ্টম বেতন কমিশনের আগে এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ফলে কর্মচারী ইউনিয়নের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা-এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সরকার একটি মধ্যবর্তী রাস্তা খুঁজতে পারে।
