নয়াদিল্লি: ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির ভাবনা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশনের (EPFO). এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের (EPS-95) আওতায় এই মুহূর্তে ন্যূনতম ১০০০ টাকা বেতনের বিধান রয়েছে। এই ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির পক্ষে লাগাতার সওয়াল করে আসছে বিভিন্ন শ্রমিক এবং পেনশনভোগীদের সংগঠন। বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্রের শ্রম এবং কর্মসংস্থান মন্ত্রকও। (EPFO Pension News)
ন্যূনতম পেনশন ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫০০ টাকা করতে লাগাতার সওয়াল করে আসছিল শ্রমিক এবং পেনশনভোগী সংগঠনগুলি। তাঁদের দাবি ছিল, বেঁচে থাকার যে প্রাথমিক প্রয়োজন, আজকের দিনে তা ১০০০ টাকায় মেটানো সম্ভব নয় কোনও ভাবেই। EPF রয়েছে যাঁদের, তাঁদের ন্যূনতম পেনশন বাড়িয়ে অন্তত ৭৫০০ টাকা করা হোক। এতে লক্ষ লক্ষ গ্রাহক উপকৃত হবেন। (Pension Hike)
বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্র। এতে সরকারি কোষাগারের উপর বিপুল পরিমাণ আর্থিক বোঝা চাপতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বর্তমানে ন্যূনতম ১০০০ টাকার পেনশন দিতে প্রতিবছর বাড়তি ৯৫০ কোটি টাকা খরচ হয় কেন্দ্রের। ন্যূনতম বেতন ৭৫০০ টাকা করা হলে, একধাক্কায় অনেকটাই খরচ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই সব দিক বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে বলে দিল্লি সূত্রে খবর।
ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটিও। শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এই মুহূর্তে EPFO-র অন্দরেও বেশ কিছু রদবদল ঘটানো হচ্ছে। ভারতীয়দের জন্য অবসরকালের অধুনিকীকরণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৬ অর্থবর্ষে EPF-এর উপর ৮.২৫ শতাংশ সুদও এখনও জমা পড়েনি। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের অনুমোদন পেলেই সরাসরি অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে বলে জানা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য EPF থেকে সরাসরি ATM পরিষেবা চালুরও প্রস্তুতি চলছে। ফলে নিজের টাকা হাতে পেতে আর বিশেষ ঝক্কি পোহাতে হবে না। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে সবমিলিয়ে ৮.৩১ কোটি আবেদন মিটিয়েছে EPFO. এর মধ্যে ৫.৫১ কোটি আবেদন ছিল আগাম বা আংশিক টাকা তোলার আবেদন।
নতুন E-PRAAPTI পোর্টালও চালু করেছে EPFO, যাতে নিষ্ক্রিয় প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে পারেন গ্রাহকরা। পাশাপাশি, আধার ব্যবহার করে পুরনো অ্যাকাউন্টও সংযুক্ত করে নেওয়া যাবে।
