কলকাতা: জীবনবিমা ও চিকিৎসা বিমায় ১৮ শতাংশ হারে জিএসটি ধার্য করা নিয়ে, গত কয়েক মাস ধরেই সরগরম ছিল জাতীয় রাজনীতি। বিমায় এত বেশি হারে GST-র বিরোধিতায় শুধু বিরোধীরাই নন, সরব হয়েছিলেন খোদ মোদির মন্ত্রিসভার সদস্য নিতিন গডকড়ীও। চিঠি লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সবের মাঝখানেই শনিবার বাজেট পেশ করলেন নির্মলা সীতারমণ। তৃতীয় মোদি সরকারের দ্বিতীয় বাজেটে, মধ্যবিত্তের জন্য দেওয়া হল আয়কর-ছাড়। বছরে ১২ লক্ষ টাকা অবধি আয় করলে, আপনাকে এক টাকাও আয়কর দিতে হবে না। তারপর রয়েছে ৭৫ হাজার টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বছরে ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা করমুক্ত। এর পাশাপাশি বিমা খাতে FDI ৭৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে পুরোপুরি ১০০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। যা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। 

এদিন তিনি বলেন, ' এই বাজেট মোটেও জনমোহিনী নয়, বরং এই বাজেট দুর্যোগসম সাধারণ মানুষের জন্য। এর গভীরে বিরাট মাথাদের ভয়ঙ্কর চক্রান্তও রয়েছে। যেমন ট্যাক্সে ফুড ভর্তুকি ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। যুব, মহিলা এবং কৃষিক্ষেত্রে কোনও উল্লেখযোগ্য ঘোষণা নেই। বেকারত্ব কমানো নিয়ে কোনও দিশা নেই। দেশে এখন বেকারত্বের সংখ্যা ৪৬ শতাংশ এঁদের মদুহ্যে শিক্ষিত বেকার প্রায় ৩০ শতাংশ। CMIE- এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৩৭ মিলিয়ন বেকার। বিমা খাতে ১০০ শতাংশ প্রত্যাক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ। এর ফলে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন সহ একাধিক ভারতীয় বিমা সংস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে।' 

অমিত মিত্রের দাবি, 'আমাদের সরকারের তরফে যখন বিমায় জিএসটি তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল, সেই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী চিঠিও দিয়েছিলেন তখন নিরুত্তর ছিল কেন্দ্র। অথচ এখন সেই বিমা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগকে ১০০ শতাংশ করে দিল কিন্তু বিমা ক্ষেত্রে জিএসটি কিন্তু ১৮ শতাংশই আছে, সেখানে বদল হয়নি। এর অর্থ লাভের লাভ কিছুই হবে না।' 

আরও পড়ুন, বিমায় ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ? কী কী সুবিধা পাবেন বিমা গ্রাহকরা? প্রিমিয়ামে কি মিলবে ছাড়?

রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর আশঙ্কা, 'এই বাজেট কিছুই করেনি আসলে। বাজেটে মধ্যবিত্তদের জন্য আয়করে বেনজির ছাড়ের যে ঘোষণা হল ভেবে দেখলে বোঝা যাবে এটাও একধরনের চক্রান্ত। কারণ দেশে মূল্যবৃদ্ধি কিন্তু বেড়েই চলেছে। ট্যাক্সে ছাড় দিলেও সেটা মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে সে টাকা সরকারি কোষাগারে নিয়ে নেওয়া হবে। অর্থাৎ সাধারণের ক্ষেত্রে মোট লাভ কিন্তু সেই শূন্য। এর মধ্যে রাজস্ব ঘাটতি দেখিয়ে আরও ঋণ নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। সেক্ষেত্রে আরও বাড়বে মূল্যবৃদ্ধি। অর্থাৎ মোদি সরকার যে বলছেন যে সাধারণের সঞ্চয়ে, পকেট ভরায় জোর দেওয়া হচ্ছে সেই টাকাটাই মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে নিয়ে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার।'  

আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে