HAL: এবার বড়সড় সাইবার জালিয়াতির ফাঁদে সরকারি সংস্থাও। নিমেষে খোয়া গেল ৫৫ লক্ষ টাকা। এক ভুয়ো সংস্থাকে টাকা পাঠিয়েই বিপত্তিতে এই সংস্থা। সাইবার জালিয়াতরা (Cyber Fraud) এমনভাবে টেন্ডার ইমেল অ্যাড্রেস সাজিয়েছিল যেন মনে হয় ওটাই আসল ইমেল অ্যাড্রেস, আর সেই ইমেলে দেওয়া লিঙ্কে গিয়ে টাকা পাঠাতেই জালিয়াতদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায় সেই টাকা। বড় বিপদে হিন্দুস্তান এরোনটিকস লিমিটেড (Hindustan Aeronautics Limited)।

সংবাদসূত্রে জানা গিয়েছে, মার্কিন বিমান যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থা পিএন ইঞ্জিনিয়ারিং আইএনসি হিন্দুস্তান এরোনটিকসকে জানায় যে তারা কোনও পেমেন্ট পায়নি তাদের অ্যাকাউন্টে। এরপরেই কর্মীদের টনক নড়ে। লেনদেনের সমস্ত রেকর্ড ভালভাবে যাচাই করে হিন্দুস্তান এরোনটিকসের কর্মীরা লক্ষ্য করেন এই পেমেন্ট এক জালিয়াতের ইমেল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। আর সেই ইমেল অ্যাড্রেসে মাত্র একটা 'ই' অক্ষরের বদলের জন্য এত বড় বিপত্তি ঘটে গেল।

সংবাদমাধ্যমকে ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ অঞ্জলি বিশ্বকর্মা জানিয়েছেন, 'বিমানের যন্ত্রাংশ কেনার জন্য মার্কিন সংস্থা পিএস ইঞ্জিনিয়ারিং ইনকর্পোরেটেড-এর সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল হিন্দুস্তান এরোনটিকসের। কথাবার্তা শুরু হলে এবং ইতিবাচক দিকে এগোলে সব আলোচনাই চলত একটি বৈধ ইমেল আইডিতে। আর এই বৈধ ইমেল আইডিতেই মাঝে একটি জায়গায় একটিমাত্র অক্ষর পালটে দেওয়া হয়েছিল জালিয়াতদের ইমেল আইডিতে। দুটি আইডির মধ্যে একটিই ফারাক ছিল 'ই' অক্ষরটি। আর সেই কারণে ভাল করে লক্ষ্য না করার জন্য হিন্দুস্তান এরোনটিকস লিমিটেড সংস্থা সেই ভুয়ো অ্যাকাউন্টেই পাঠিয়ে দেয় ৫৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু যখন পিএস ইঞ্জিনিয়ারিং জানায় যে তারা কোনও টাকা পায়নি, কোনও পেমেন্ট আসেনি, তখনই এই জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, হিন্দুস্তান এরোনটিকস সংস্থা একটি জালিয়াত অ্যাকাউন্টেই ৫৫ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল।'

এই জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল ২০২৪ সালের মে মাসে। পিএস ইঞ্জিনিয়ারিং-এর থেকে তিনটি যুদ্ধবিমানের সরঞ্জাম কেনার কোটেশন চেয়ে পাঠয়েছিল হিন্দুস্তান এরোনটিকস। সংস্থার বৈধ ইমেল আইডিতেই চলছিল কথাবার্তা। সাইবার জালিয়াতরা এই ঘটনা ভাল করে নজর করছিল এবং সেই ইমেল আইডির অনুকরণে প্রায় একইরকম ইমেল আইডি বানিয়ে সমস্ত ব্যাঙ্ক ডিটেল পালটে নিয়েছিল। আর সেভাবেই হিন্দুস্তান এরোনটিকসকে ফাঁদে ফেলে পেমেন্ট হাতিয়ে নেয় জালিয়াতরা।

এই ঘটনায় হিন্দুস্তান এরোনটিকস কানপুরের অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার অশোক কুমার সিং ১৩ মার্চ একটি মামলা দায়ের করেন। তথ্য প্রযুক্তি আইনের অধীনে মামলা দায়ের করে শুরু হয় প্রাথমিক তদন্ত। আইআইটি কানপুরের সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে খতিয়ে দেখছেন এবং জালিয়াতিদের ট্র্যাক করার কাজ চলছে।    

আরও পড়ুন: Best Stocks To Buy : চলতি বছরে অসাধারণ রিটার্ন দেবে এই ৮ স্টক, বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন পরামর্শ