নয়াদিল্লি: দালাল স্ট্রিটে রক্তপাত, বিশ্ববাজারে পড়ল সোনার দাম। ডলারের সাপেক্ষে রুপির বিনিময়দর নামল আরও এক টাকা। সব মিলিয়ে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে দেশের অর্থনৈতিক পরিসরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। সোমবার আর্লি ট্রেড থেকে লক্ষ্য করা গিয়েছিল সেনসেক্সের পতন। যা বেলা গড়াতেই ভয়াবহ রূপ নেয়।

Continues below advertisement

এদিন সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এক ধাক্কায় সেনসেক্স পড়েছে ১ হাজার ৮৯৮ পয়েন্ট। প্রায় ২.৫৪ শতাংশ পড়ে আপাতত সেনসেক্স এসে ঠেকেছে ৭২ হাজার  ৭৩০ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিফটি ৫০-র পরিণতিও প্রায় একই। আর্লি ট্রেড থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সূচকটি পড়ে গিয়েছে ৬০৩ পয়েন্ট। শতাংশের নিরিখে বলতে গেলে প্রায় ৩ শতাংশ। সোমে দালাল স্ট্রিটে সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়েছে মেটাল ও পিএসইউ বা রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক নির্ভর  শেয়ারগুলি। নিফটি মেটাল পড়েছে ৪ শতাংশ। পড়েছে ফিনান্স ভিত্তিক স্টকগুলিও। বেলা পর্যন্ত টাটা স্টিল ঢুকে গিয়েছে বাজে পারফরমিং স্টকের তালিকায়। পড়েছে আইটি পরিষেবা কেন্দ্রীক স্টকগুলিও। 

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকি জেরে ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম! জরুরি বৈঠকে মোদি

Continues below advertisement

ইতিমধ্যেই চতুর্থ সপ্তাহে পা দিয়েছে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। প্রতি মুহূর্তে যার তীব্রতা বাড়াচ্ছে দুই পক্ষ। ফলত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারেও। হরমুজ প্রণালী নিয়ে জারি করা বিধি তেহরান কিছুটা শিথিল করলেও, তাতে যে চিন্তা কেটেছে এমন নয়। বিশ্ব বাজারে তারপরও বেড়ে চলেছে অশোধিত তেলের ব্যারলের দাম। সংঘাত শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত এই ব্রেন্ট ক্রুড বা অশোধিত তেলের ব্যারল প্রতি দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। সোমবার একটি ব্যারলের দাম এখনও পর্যন্ত বেড়ে পৌঁছে গিয়েছে ১১২ মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১০ হাজার ৫১৮ টাকায়। ব্যাহত হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগানও। তবে শুধু তেল নয়! বিশ্ববাজার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সোনা, রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুগুলি নিয়েও। MCX-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন সোনার দাম পড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশের অধিক। রুপোর দাম পড়েছে ৬ শতাংশের অধিক। তামা পড়েছে ২ শতাংশ।

এই মুহূর্তে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে শেয়ার বাজার। একদিকে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, আরেকদিকে সোনা-রুপোর দাম কমছে হু হু করে। যা নিয়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিসরে উদ্বেগ বাড়ছে। এদিকে,  এই আবহে দাপট বাড়ছে মার্কিন ডলারের। গত সপ্তাহে ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রা রুপির বিনিময়দর পৌঁছে গিয়েছিল ৯৩ টাকায়। সপ্তাহ শেষ হতে তা এসে ঠেকেছিল ৯৩.৫৩-তে। যা এবার নতুন সপ্তাহ পড়তেই আরও ৪১ পয়সা পড়ে দাঁড়াল ৯৩.৯৪ টাকায় অর্থাৎ প্রায় ৯৪-এর ঘরে।