Swami Ramdev : ৩২তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করল পতঞ্জলি যোগপীঠ। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন হল এই দিন। এই উপলক্ষে যোগগুরু স্বামী রামদেব ও আচার্য বালকৃষ্ণ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তুলে ধরেন। এখানে পতঞ্জলির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগব্যায়াম, মল্লখাম্ব ও মার্শাল আর্টের নজরকাড়া পারফরম্য়ান্স দেন।
বিশ্ব মঞ্চে সনাতনের পতাকাএই উপলক্ষ্যে সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে স্বামী রামদেব বলেন, আগামী দিনে সনাতন জীবনধারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে প়ড়বে। তিনি বলেন, “যোগ, আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আমাদের লক্ষ্য হল, বিশ্বের ৮০-৯০ শতাংশ মানুষ যেন সনাতন মূল্যবোধ অনুসরণ করে।”
এই বিষয়ে কী বলেছেন বাবা রামদেবভারতীয় শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে এই প্রসঙ্গে স্বামী রামদেব বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় টাকা ও পাসপোর্টের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। তিনি এমন এক ভবিষ্যতের কথা বলেন, যেখানে ২০০টি দেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য পতঞ্জলিতে আসবে। তিনি পতঞ্জলি গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন, যেখানে শিক্ষার সব আধুনিক ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের পথএই উৎযাপন উপলক্ষ্যে আচার্য বালকৃষ্ণ গত তিন দশকে সম্মুখীন হওয়া চ্যালেঞ্জগুলি কথা স্মরণ করে বলেন, পতঞ্জলির যাত্রা ছিল উত্থান-পতনে ভরা। পাশাপাশি তীব্র সংগ্রামে পরিপূর্ণ। স্বামী রামদেবের ‘অটল সংকল্পের’ প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা ছাড়াই পতঞ্জলি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কাজ করেছে।
এফএমসিজি খাতে পতঞ্জলির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পতঞ্জলির কারণে বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানিগুলি তাদের স্বেচ্ছাচারী মূল্য নির্ধারণ কমাতে বাধ্য হয়েছে।” তিনি কৃষিক্ষেত্রে পতঞ্জলির অবদানের কথাও তুলে ধরে বলেন, সংস্থা ১৯টি রাজ্যের কৃষকদের জৈব চাষে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছে।
আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী ভারত গড়ার আহ্বানএই অনুষ্ঠানে স্বামী রামদেব দেশের যুবকদের ভারতের প্রাচীন ঋষিদের ঐতিহ্যের জন্য গর্বিত হতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাহস ও বীরত্বের মাধ্যমেই ভারতের চূড়ান্ত গৌরব অর্জন করা সম্ভব। অনুষ্ঠান শেষে, বেশ কয়েকজন সেবাপরায়ণ ব্যক্তিকে নতুন সাংগঠনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। মানবজাতির কল্যাণে প্রতিষ্ঠানটিকে উৎসর্গ করার জন্য নতুন করে অঙ্গীকার করা হয় এই অনুষ্ঠানে।