SEBI Case On Rajesh Exports :  মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মারত্মক প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারে (Indian Stock Market)। বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে হু হু করে বেড়ে চলেছে জ্বালানির দাম। যার ফল পড়েছে কোম্পানির ত্রৈমাসিক রিপোর্টে। যে কারণে বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে দেশের অর্থনীতি। এরই মধ্যে নতুন করে চিন্তা বাড়াল রাজেশ এক্সপোর্টের ১৫ লাখ কোটির হিসেব কারচুপির অভিযোগ (Rajesh Exports SEBI Case)। সবথেকে বড় বিষয়, এই কোম্পানিতে ১০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ রয়েছে LIC-র। রাষ্ট্রায়ত্ত কানারা ব্যাঙ্ক (Canara Bank) বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়েছে এই কোম্পানিকে। ফলে ঝুঁকিতে পড়ে গেল সাধারণ মানুষের টাকা।  

Continues below advertisement

কেন এই কোম্পানিকে নিয়ে এত চিন্তা বাড়ছেদেশের অন্যতম বৃহৎ সোনা ও গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’ (Rajesh Exports) এবার এক চরম সংকটের মুখে। একদিকে দেশের শেয়ার বাজার নিয়ামক সংস্থা সেবি (SEBI) কোম্পানির বিরুদ্ধে মারাত্মক আর্থিক তছরুপের অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে পাওনাদারের দায়ের করা দেউলিয়া পিটিশন এই দুই ফলায় কার্যত বিদ্ধ বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক এই সংস্থা।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এই সংস্থায় একদিকে যেমন রাষ্ট্রায়ত্ত কানারা ব্যাঙ্কের (Canara Bank) কোটি কোটি টাকার ঋণ আটকে রয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের জমানো টাকার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন বা এলআইসি (LIC)-র বিপুল বিনিয়োগও এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

Continues below advertisement

এই পাঁচ কারণে বাজারের বিনিয়োগকারীদের মনে চিন্তা বাড়ছে

১ বাজার থেকে নিষিদ্ধ সংস্থার কর্ণধার রাজেশ মেহতাবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির হাতে ইতিমধ্যেই এসেছে হিসেব কারচুপির প্রাথমিক প্রমাণ। যে কারণে কোম্পানির বিরুদ্ধে গত ৩ জুন একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেছে SEBI। সেই নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজেশ এক্সপোর্টস ও সংস্থার চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ মেহতাকে পুঁজিবাজার বা শেয়ার মার্কেট থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২ ১৫.১৫ লাখ কোটি টাকার বিরাট হিসেব কারচুপির অভিযোগকী বলা হয়েছে সেই রিপোর্টে ? সেবির রিপোর্টে যে তথ্য সামনে এসেছে তা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। ২০২১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে রাজেশ এক্সপোর্টস তাদের সহযোগী সংস্থাগুলি থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের প্রায় ১৫.১৫ লাখ কোটি টাকা ভুলভাবে বা কারচুপি করে দেখিয়েছে। এই পরিমাণটি তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৯৯.৮ শতাংশ! সেবি জানিয়েছে, সংস্থার আয়ের ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশ আসত সুইজারল্যান্ড-ভিত্তিক সহযোগী সংস্থা 'Valcambi SA' থেকে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই সংস্থাগুলির আর্থিক খতিয়ান কখনই জনসমক্ষে আনা হয়নি।

৩ ভুয়ো লেনদেন ও তহবিল তছরুপের একাধিক অভিযোগসেবির নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'অ্যাফ্লুয়েন্স শেয়ার্স অ্যান্ড স্টকস প্রাইভেট লিমিটেড' নামক একটি সংস্থার সঙ্গে ১১,৪৮৭ কোটি টাকার বিক্রি এবং ১১,৪৮৮ কোটি টাকার ক্রয়ের হিসাব দেখিয়েছে রাজেশ এক্সপোর্টস। অথচ সংশ্লিষ্ট ওই সংস্থাটি এই ধরনের কোনও লেনদেনের কথাই সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। শুধু তাই নয়, অডিট কমিটির অনুমতি ছাড়াই সংস্থার ৩৩৯ কোটি টাকা কর্ণধার রাজেশ মেহতার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল যা দিয়ে তিনি ডেরিভেটিভ ট্রেড করেছিলেন বলেও অভিযোগ। এই হিসেব কারচুপির জেরে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীসহ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের প্রায় ১২,৭২৬ কোটি টাকা নষ্ট হয়েছে।

৪ কানারা ব্যাঙ্ক দিয়েছিল বিপুল অঙ্কের ঋণ, যা মেটানো হয়নি সবথেকে চিন্তায় পড়েছে কানারা ব্যাঙ্ক। রাজেশ এক্সপোর্টসকে বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়েছিল সংস্থা। সময়মতো ঋণ শোধ না করায় কানারা ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই এই সংস্থাকে 'স্ট্রেসড লোন' (Stressed Loan) বা সংকটাপন্ন ঋণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থার কাছে ব্যাঙ্কের মোট পাওনা ৫০৯ কোটি টাকা। টাকা উদ্ধারে কানারা ব্যাঙ্ক এখন এই ঋণটি একটি ওপেন অকশন বা প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে অন্য কোথাও বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

৫ ঝুঁকির মুখে LIC-তে থাকা সাধারণ মানুষের টাকারাজেশ এক্সপোর্ট নিয়ে চিন্তা বেড়েছে LIC-র। কারণ কোম্পানিকে বাজারে নিষিদ্ধ করায় LIC-র বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে গিয়েছে। যা আসলে সাধারণ মানুষের পলিসির টাকা। কানারা ব্যাঙ্ক যেখানে ঋণদাতা হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত, সেখানে দেশের বৃহত্তম বিমা সংস্থা LIC-র এই সংস্থায় ১০.৮% শেয়ার অংশীদারিত্ব রয়েছে। অর্থাৎ, রাজেশ এক্সপোর্টসের অন্যতম বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হল এলআইসি। মনে রাখা দরকার, এলআইসি-র এই টাকা কোনও নিজস্ব পুঁজি নয়, এটি কোটি কোটি সাধারণ ভারতীয়র পলিসির প্রিমিয়ামের টাকা। ফলে এই সংস্থার পতনে পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ই বড়সড় ধাক্কা খেল।

এই বিষয়ে কী বলছে কোম্পানিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির এই অভিযোগ সামনে আসার পরই মুখ খুলেছেন রাজেশ এক্সপোর্টসের সিএমডি রাজেশ মেহতা। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, "এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ মাত্র। সেবির এই তথ্য ও পরিসংখ্যান একেবারেই সঠিক নয়। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত বিবৃতি পেশ করব।"

আরও পড়ুন : আবার বড় স্ক্যাম দেশে, ১৫ লাখ কোটির আর্থিক কারচুপি, LIC-র মাথায় হাত !