কলকাতা: 'বিচারাধীন মামলায় একই ইসিআইআর-এর সূত্র ধরে অনেক কিছু হচ্ছে'। ইডির বিরুদ্ধে ফের হাইকোর্টে গেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের অফিসে তল্লাশির সময় কম্পিউটারে ইডি অফিসারের ফাইল ডাউনলোড নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 'ইসিআইআর খারিজের আবেদন নিয়ে আদালতে এসেছিলেন, এখন নতুন করে আবেদনের কারণ কী?' অভিষেকের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। 'বিচারাধীন মামলায় ইডির এই আচরণ বিদ্বেষপূর্ণ'।
উত্তরে জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। 'রায়দান স্থগিত রয়েছে, এই সময়ে নতুন করে কোন আবেদন দাখিল করা যায় না' আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য এই আবেদনপত্র দাখিল হয়েছে, সওয়াল করে ইডি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে মামলায় হস্তক্ষেপের সংস্থান আইনে আছে, পাল্টা যুক্তি অভিষেকের আইনজীবীর। 'ওই ১৬টি ফাইলে কী আছে, আপনি দেখেছেন?' ইডি-র আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। 'আমি ওই ১৬টা ফাইল দেখব, তাহলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কাল রাজ্যের আইনজীবীকে ডেকে পুলিশের কাছ থেকে ফাইল দেখব'ষ এদিন এই মন্তব্যও করেছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। কাল দুপুর ৩টেয় ফের শুনানি।
লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের অফিসে, ED-র তদন্তকারী অফিসার যে ১৬টি ফাইল ডাউনলোড করেছিলেন, শনিবারই তা দেখতে চাইলেন হাইকোর্টের বিচারপতি। বললেন, সেগুলি দেখলেই, সমস্য়ার সমাধান হয়ে যাবে। নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যাননি।
এই প্রেক্ষাপটে ইডি-র ECIR এবং সমন খারিজের জন্য় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ। শুক্রবার, আদালতে তাঁর আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন,মামলা এখনও বিচারাধীন। শুনানি শেষ হয়ে গেলেও, রায়দান হয়নি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। তাই, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের দাখিল করা নতুন আবেদনের শুনানির অধিকার আদালতের আছে। নতুন করে উদ্ভুত আপৎকালীন পরিস্থিতিতে আদালত নতুন আবেদন শুনতে পারে।
মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে পুনরায় সেই মামলায় হস্তক্ষেপ করার আইনি সংস্থান আদালতের আছে। অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে, বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ECIR খারিজের আবেদন নিয়ে আপনারা আদালতে এসেছিলেন। এখন নতুন করে এই আবেদনের কারণ কি ? উত্তরে অভিষেকের আইনজীবী বলেন, বিচারাধীন মামলায় ED-র এই আচরণ বিদ্বেষপূর্ণ। নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া কোনও মামলায় নতুন করে বিচার চেয়ে আমি আদালতে আসিনি।
মামলা এখনও সক্রিয় আছে। তাই আদালত আমার আবেদন বিবেচনা করে দেখতেই পারে। পাল্টা ED-র আইনজীবী বলেন, শুনানি শেষ হয়ে রায়দান স্থগিত রাখার সময়, নতুন করে কোনও আবেদন দাখিল করা যায় না। আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য এই আবেদনপত্র দাখিল করা হয়েছে। বিচারাধীন মামলার আবেদনের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই।
লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের CEO অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত কতদূর? কেন তাকে সমন পাঠানো হয়নি? গতকালই আদালতে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়ে ইডি। ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেন বিচারপতি অমৃতা সিন্হা। কলকাতা হাইকোর্টে কড়া ভর্ৎসনার মুখে মঙ্গলবার ED জানায়, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের নোটিস পাঠানো হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।