কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এখন পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। অর্থাৎ, নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে মহিলা ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে বিধানসভা ভোটের মুখে, সব দলই যখন মহিলা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন বীরভূমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা থেকে সাফ বলে দেন কতদিন পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে যাবে তৃণমূল সরকার। 

Continues below advertisement

বিজেপিকে নিশানা করে এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'যতই কর হামলা আবার জিতবে বাংলা। যতই SIR করুক, আগামিতে তৃণমূলের আসন সংখ্যা বাড়বে। ২১৪ আসন পার করে আরও শক্তিশালী হবে তৃণমূল। গত ৪-৫ বছর ধরে আমাদের সরকার এখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছে। এক বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ২৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। ২০২১-এ হারার পর বাংলার টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। ২ কোটি ৩২ লক্ষ মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দিচ্ছে তৃণমূল। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে ততদিন বিজেপি চোখ তুলে দেখার, আঙুল তুলে কথা বলার ক্ষমতা পাবে না। যতদিন এই সরকার থাকবে ততদিন মাসের প্রথমে যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন তেমনই পাবেন। বিজেপি যতই চেষ্টা করুক লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আঁটকানোর।' 

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সভার মঞ্চ থেকে এইভাবে মহিলাদের ঘরবন্দি করার দাওয়াই দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত। যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছে।

Continues below advertisement

এর পাশাপাশি অনুব্রত-গড় থেকে অভিষেক এও বলেন, 'তৃণমূল জিতলে দু'মুঠো ভাত পাবেন। রাজ্যের মানুষকে ভাতে মারার চেষ্টা বিজেপির। তৃণমূল কারও কাছে মাথা নত করে না। কবে টাকা দেবে কেন্দ্র, আর সেই টাকা কবে পাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। সেই অপেক্ষায় বসে থাকবে না তৃণমূল সরকার'। 

প্রসঙ্গত, শনিবার খোদ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সভার মঞ্চ থেকে মহিলাদের ঘরবন্দি করার দাওয়াই দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত। যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছে। কারণ তিনি বলেছিলেন, ওই মায়েদেরকে ঘরে বন্দি রেখে দেবেন। ভোটটা দিতে হবে পদ্মফুলে, জোড়া ফুলে নয়। এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, 'দিল্লির কোনও একজন নেতাদের নেতা তিনি নাকি বলেছেন লক্ষীদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেবে না ভোটের দিন। এটা কি অপরাধ নয়? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যাঁরা পান, আমাদের যাঁরা টুকলি করেছেন, তারা বাড়িতে বাইক থাকলে দেয় না, সাইকেল থাকলে দেয় না, টেলিভিশন থাকলে দেয় না, ভোটের সময় ১০ হাজার আর ভোট চলে গেলেই বুলডোজার।'