কলকাতা: MR বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসককে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল। রোগীর ফোন পেয়ে হাসপাতালে ঢুকে তাণ্ডব চালাল বহিরাগতরা। ঘটনায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে গল্ফ গ্রিন থানার পুলিশ।
হাসপাতালে ঢুকে তাণ্ডব: ফের সরকারি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসককে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল। মাঝরাতে এমআর বাঙুর হাসপাতালে ঢুকে তাণ্ডব চালাল দুষ্কৃতীরা। হাসপাতালে পুলিশ আউটপোস্ট থাকা সত্ত্বেও ভিতরে ঢুকে চিকিৎসককে মারধর করল বহিরাগতরা। মঙ্গলবার রাত ২ টো নাগাদ হাতে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আসেন চারুমার্কেট থানা এলাকার বাসিন্দা সুভাষ মিদ্যা। পুলিশ সূত্রে খবর, কাচে হাত কেটে গিয়েছিল তার। ওই অবস্থাতেই ইমার্জেন্সিতে চিকিৎসা করাতে যান তিনি। সেই সময় এম আর বাঙুর হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত ছিলেন চিকিৎসক সায়ন্তন বিশ্বাস। রোগীর হাতে স্টিচ করতে যান তিনি। তখনই, লোকাল অ্য়ানাস্থেশিয়া ছাড়া স্টিচ করাতে আপত্তি জানান রোগী। এরপরই চিকিৎসকের সঙ্গে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এরই মধ্যে, রোগীর ফোন পেয়ে চারু মার্কেট এলাকা থেকেই সেখানে চলে আসে আরও ১৫-২০ জন যুবক। হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসককে মারধর করে দুষ্কৃতীরা। হাসপাতালের পুলিশ আউটপোস্টের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি হয় বহিরাগতদের। নিগৃহীত চিকিৎসকের অভিযোগের ভিত্তিতে ২ জনকে গ্রেফতার করেছে গল্ফগ্রিন থানা। গ্রেফতার করা হয়েছে মূল অভিযুক্ত সুভাষ মিদ্যাকে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
চলতি মাসেই ৪ জন সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। বিধাননগর ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী, উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়, রঞ্জন ভট্টাচার্য, মানস গুমটার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের অভিযোগ, 'রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে'। এবিষয়ে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিল সদস্য কৌশিক বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, "কতিপয় বামপন্থী সংগঠনের চিকিৎসকরা মিলে বহুদিন একাধিকবার রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের অফিসের বাইরে এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন সেটা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। এনারা এসে বারবার বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন। রোগী, রোগীর পরিবার, চিকিৎসকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়। খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। আসলে এরা কোনওদিন রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল চালাননি আর ৪০-৫০ বছরে চালাবেনও না। তাই বিশৃঙ্খলা করছেন।''