নয়াদিল্লি : ধীরে সুস্থে এসে, ধর্ম জিজ্ঞাসা করে, বেছে বেছে হিন্দু পর্যটকদের খুন করে পাইনের বনে গা ঢাকা দিয়েছে জঙ্গিরা! তারপর থেকেই ত্রস্ত আসমুদ্র হিমাচল। এক ঝটকায় কাশ্মীরের প্রাণবন্ত মেজাজটা শেষ হয়ে গিয়েছে। এই হামলার সঙ্গে ইতিমধ্যে সামনে এসেছে পাক-জঙ্গি যোগ। সূত্রের দাবি, হামলার মাস্টারমাইন্ড আদিল গুরি বেশ কয়েকবার পাকিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছে । ভয়ঙ্কর এই জঙ্গি হামলার বিরুদ্ধে বইছে নিন্দার ঝড় । এই অবস্থায় সারা দেশ বদলা চাইছে। যোগ্য জবাব দেওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এবার কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ধর্মের নামে পর্যটকদের হত্যা করার ঘটনায় পাকিস্তানকে কার্যত ধুয়ে দিলেন এআইএমআইএম সুপ্রিমো হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। লস্কর-ই-তৈবার বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করলেন তীক্ষ্ণ বাক্যবাণ।
অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি পাকিস্তানের সমালোচনা তো করলেই, বললেন লস্কর-ই-তৈবা পাকিস্তান সরকারের অবৈধ সন্তান ! পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি। ওয়াইসি আরও বলেন, যা পরিস্থিতি তাতে পাকিস্তানের ক্ষমতা খর্ব করে, তাদের দুর্বল করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াইসি বলেন, পাকিস্তান বছরের পর বছর ধরে দেশে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এই LET (লস্কর-ই-তৈয়বা) পাকিস্তান সরকারের অবৈধ সন্তান। তিনি ভারতের সংবিধানের ৩৫৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, যদি কোনও দেশে বাইরে থেকে আক্রমণ করা হয়, তবে তা বন্ধ করা উচিত।
ওয়াইসি আরও বলেন, পাকিস্তান কোনওভাবেই ভারতের সমকক্ষ নয়। ভারতের সামরিক বাজেট পাকিস্তানের পুরো বাজেটের সমান। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের ঘাঁটি এবং অবৈধ অর্থের মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসবাীদের লালন-পালন করছে। পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে ওয়াইসি বলেন, 'আধ ঘণ্ট নয়, পাকিস্তান ভারতের থেক অর্ধশতাব্দী পিছিয়ে। পাকিস্তানি নেতাদের ভারতকে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দেওয়া উচিত নয়। তাদের মনে রাখতে হবে, যদি অন্য দেশের নিরপরাধ মানুষকে তারা হত্যা করে তাহলে ভারত চুপ করে বসে থাকবে না।'
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার চক্রীদের কঠোরতম জবাব দেওয়ার প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কারের মধ্যেই, পাল্টা পরমাণু যুদ্ধের নির্লজ্জ আস্ফালন করেছে পাকিস্তান। একই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্য শোনা গিয়েছে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী থেকে পাঞ্জাব প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মুখে। সামরিক শক্তিতে ভারতের থেকে ঢের পিছিয়ে থাকলেও, অতীতের মতো ফের ভারতকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ফাঁকা আওয়াজ দিতে শুরু করেছে!