পার্থপ্রতিম ঘোষ, ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী, কলকাতা : বাগুইআটি জোড়া খুন (Baguihati Dual Murder) ঘিরেও একাধিক প্রশ্ন। অভিষেক ও অতনুর খুনের তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক ক্লু। হোয়াটস অ্যাপ মেসেজের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে তদন্ত। এত মেসেজ হাতে পাওয়ার পরেও ধরা যায়নি মূল অভিযুক্তকে, যা নিয়ে রীতিমত প্রশ্নের মুখে পুলিশের (Police) ভূমিকা। এর মাঝেই সামনে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। অপহরণের পর মুক্তিপণ চেয়ে অভিযুক্ত প্রথম মেসেজ করেছিল নিহত অতনু দে-র এক বান্ধবীকে। তারপর বাকি বন্ধুদেরও মেসেজ পাঠানোর পর পরিবারকে সরাসরি হুমকি মেসেজ দিতে শুরু করে।
কী জানাচ্ছে পরিবার
নিহত ছাত্র অতনু-র বাবা বলেছেন, 'বান্ধবীকে প্রথম মেসেজ করে, বন্ধুদেরও করে। তারপর আমরা জানতে পারি এবং এই সমস্ত মেসেজ আমরা পুলিশকে জানিয়েছি।' বন্ধুদের কাছে অপহরণের মেসেজ আসার পর থেকে, অতনু-র বাড়ির লোকের কাছেও একের পর এক মেসেজ আসতে শুরু করে। পুলিশের গাফিলতির দিকে ফের একবার আঙুল তুলে অতনুর মামা গোরা বিশ্বাস বলেছেন, 'আমার কাছে যখনই যা মেসেজ এসেছিল, পুলিশকে জানিয়েছিলাম। তখনই আমরা জানিয়েছিলাম পুলিশকে। পুলিশের গাফিলতি।'
ঠিক কী হুমকি মেসেজ
'তোর ছেলের বডি পরশু দিন নিয়ে নিস'। ডানকুনি থেকে প্রথম SMS-টি এসেছিল ৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ২৬ মিনিটে। আর পরেরটি ১১টা ২৭ মিনিটে। নিহত স্কুল পড়ুয়া অতনু দের পরিবারের দাবি, যে নম্বর থেকে SMS এসেছিল, সেই নম্বরে ফোন করলে কেউ ধরেনি।
৩ তারিখ যেখানে মৃতদেহ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এসএমএসে, সেখানে তার ২ দিন পর, গত ৫ সেপ্টেম্বর, মুক্তিপণ নিয়ে অতনুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মেসেজে কথা হয় অপহরণকারীর। ওই দিন অতনুর মায়ের ফোন থেকে লেখা হয়, 'আমরা টাকা দিতে রাজি। তুমি ফোন করে কথা বলো।'
পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা
মুক্তিপণ নিয়ে অতনুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যেদিন এই কথা হয় অপহরণকারীর, সেদিনই পরিবার জানতে পারে, টাকা দিয় আর কোনও লাভ নেই। আর ফিরবে না অতনু। কারণ, বসিরহাট মর্গে শুয়ে আছে তার নিথর দেহ!! বাগুইআটিকাণ্ডে পুলিশের গাফিলতি কোন পর্যায়ে ছিল, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এমনই কিছু SMS ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ।
৬ তারিখ অতনুর দেহ সনাক্ত করেন পরিজনরা। আর সেদিনই অপহরণকারী, অতনুর মা-কে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে লেখে,
শোন তোদের টাকা দিতে হবে না।তোরা পারবিও না টাকা দিতে। তোর ছেলের মৃতদেহ বৃহস্পতিবার পেয়ে যাবি। তোরা ইয়ারকি মারছিস তো, আর কথা বলা লাগবে না, আর মেসেজ করা লাগবে না।বুধবার শেষ দিন অতনুর জীবনের।বৃহস্পতিবার আমি যে থানায় বলব, সেই থানায় চলে যাবি, মৃতদেহের সন্ধান দিয়ে দেবে।
২২ অগাস্ট অপহৃত হয় অতনু দে ও অভিষেক নস্কর। ২৩ অগাস্ট সকালে, ন্যাজাটের ভেড়ি থেকে উদ্ধার হয় অতনুর মৃতদেহ। আর ২৫ অগাস্ট, হাড়োয়ার পুকুর থেকে মেলে অভিষেকের মৃতদেহ। অথচ নিহত অতনুর পরিবারের দাবি, অপহরণের কথা জানিয়ে ২৪ অগাস্ট প্রথম মেসেজ এসেছিল এক বন্ধুর কাছে। তার কাছ থেকেই ঘটনাটি প্রথম জানতে পারে নিহতের পরিবারের লোকজন।
প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি খুনের পরেও মুক্তিপণ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরী? উত্তর ২৪ পরগনার দু’ জায়গা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হলেও, কেন মেসেজে বলা হয়েছিল হুগলির ডানকুনি থেকে মৃতদেহ পাওয়া যাবে?
আরও পড়ুন- শুভেন্দুর মিছিলে পাথর ছোড়ার অভিযোগ, কালো পতাকা, বিক্ষোভ, ধুন্ধুমার তারকেশ্বরে