পূর্ণেন্দু সিংহ, বাঁকুড়া: চলতি মরশুমে নিম্নচাপের জেরে ধারাবাহিক বৃষ্টিতে ফের জলের তলায় খাতড়া-বাঁকুড়া ভায়া বিবড়দা রাস্তার উপর হাড়মাসড়া সংলগ্ন শিলাবতী নদীর ইঁটাপোড়া সেতু।মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই রাস্তা দিয়ে যানচলাচল করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে শিলাবতী নদীর জলস্তর বাড়তে থাকে, মুহূর্তের মধ্যে জলের তলায় তলিয়ে যায় সেতুটি। ফলে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আটকে পড়ে বেশ কিছু যানবাহন।

আরও পড়ুন, BJP কর্মী অভিজিৎ খুনের চার্জশিটে নাম ! হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন TMC বিধায়ক পরেশ ও দুই কাউন্সিলরের

 এমনকি নদী তীরবর্তী দক্ষিণের গ্রাম গুলির কয়েক হাজার মানুষ চরম সমস্যায়। এছাড়াও মহকুমা শহর খাতড়ার সঙ্গে তালডাংরা ব্লক এলাকার একটা বড় অংশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ জানিয়েছেন। এই মুহূর্তে প্রশাসনের তরফে শিলাবতী নদীর ইঁটাপোড়া সেতু দিয়ে যানচলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ভারী বৃষ্টিতে ভাসছে জেলা, ফের মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় DVC। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'অতি বৃষ্টির জেরে দুর্ভোগে মানুষ। নিচু এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরান। জেলা প্রশাসনকে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্ষায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা রুখতে সতর্কতামূলক প্রচার করতে হবে', পাশাপাশি তিনি আরও বলেন,' ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান চালু হলে বহু মানুষ উপকৃত হবে। DVC জল ছাড়ছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখুন জেলাশাসকরা। প্লাবিত এলাকায় নজরদারি চালাবে বিশেষ টিম।'

সমস্যাটা এই বছরের নয়। প্রায় প্রতিবছরই এই ছবি ফিরে আসে বাংলায়। ভেসে যায় রাজ্যের একের পর এক গ্রাম। অতীতে বহুবার 'ম্যান মেড বন্যার' তত্ত্ব তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগ তুলে DVC-কে কড়া আক্রমণ করেছেন আগেও বারবার। তবেমুখ্যমন্ত্রী এদিন একটি সমাধানেরও বার্তা দিয়েছেন ডিভিসিকে।

তিনি বলেন, ''এবার বর্ষাটা একটু আগে শুরু হয়েছে। এবং বর্ষাটা একটু বেশি হচ্ছে। বর্ষাটা ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে। যার জেরে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। বাংলা চিরকালই ভোগান্তির মুখে পড়ে। কারণ বাংলা হচ্ছে নদীমাতৃক দেশ। নদী-পুকুর-সাগর, আমরা এই জল ভরবার জন্য, প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষের বেশি পুকুরও কেটেছি ইতিমধ্যে। জলটা কিন্তু অনেক পুকুর শোষণ করেছে। কিন্তু তা সত্বেও ডিভিসি, পাঞ্চেত, মাইথন-এরা কেউ আমাদের কথায় গুরুত্ব দিচ্ছে না। শুনছে না। এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে বারবার বলা হয়েছে, খননের কাজ শুরু করতে। কারণ আমি যতদূর জানি, ডিভিসিতে যদি খননের কাজটা হয়, তাহলে তারা আরও অধিকবেশি জল ধরতে পারে। '