মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: কথায় আছে, 'জামাই আদর'। অর্থাৎ জামাইদের আদর যত্ন করা। আর জামাইষষ্ঠীর দিন তো সেই জামাই আদর একটু বেশিই হয় বৈকি! বছরের বিশেষ এই দিনে, মেয়ে জামাই বাড়িতে আসার যেন চেনা ছবি। এক টুকরো বাঙালিয়ানা। এই দিনটায় মেয়ে আর জামাইয়ের জন্য সাধ্যমতো আয়োজন করেন মেয়ের বাবা মা। মঙ্গলকামনায় করা হয় পুজো। মূলত জামাইদের বিশেষ খাতির নেওয়াই যেন এই দিনটার রীতি। তবে শুধুই কি জামাই? বিশেষ এই দিনটাকে মাথায় রেখে যদি পরিবেশ রক্ষার বার্তা দেওয়া যায়? পরিবেশকেই যদি 'জামাই আদর' করা যায় তাহলে?

জামাই ষষ্ঠীর দিন অভিনব উদ্যোগ দুর্গাপুরের কাঁকসার মলানদিঘীর আকন্দারায়। জামাই আদরে পুজো করা হল একটি বটগাছকে। গাছে বাঁধা হল সাদা সুতো। তারপরেই পথ চলতি মানুষদের মিষ্টি খাইয়ে বার্তা দেওয়া হল গাছ বাঁচানোর। জামাইষষ্ঠীতে গাছ বাঁচাতে‌ এমনই অভিনব উদ্যোগ নিলেন পরিবেশপ্রেমির সাথে পঞ্চায়েত সদস্য। আর এই উদ্যোগকে বাহবা দিচ্ছে এলাকার মানুষ। রবিবার রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে জামাই ষষ্ঠী। শ্বশুরবাড়িতে জামাইদের আদরের সাথে আয়োজন করা হচ্ছে ভুরিভোজের। তবে দুর্গাপুরের কাঁকসার মলানদিঘীর আকন্দারায় দেখা গেল ব্যাতিক্রমী চিত্র।

এলাকার পরিবেশপ্রেমী, অশোক রায়ের উদ্যোগেই এই আয়োজন। গাছ বাঁচানোর বিশেষ বার্তা বাঙালির জামাইষষ্ঠীতে। সঙ্গে ছিল এলাকার শিশু, কিশোররাও। অশোক বাবুর কথায়, 'বট গাছ ছায়া দেয়, অক্সিজেন দেয়, পাখিদের খাবার দেয়। আমরা সেইজন্য বটগাছ পুজো করলাম। আমি প্রার্থনা করলাম, পাখিদের খাবার দাও, অক্সিজেন দাও। আমি এলাকার শিশু কিশোরদের সঙ্গে নিয়ে এখনA পর্যন্ত প্রায় চার হাজার দেশীয় বৃক্ষরোপণ করেছি। পাখিদের বাসস্থান করি। মাঝেমধ্যেই সাইকেলে করে পড়ায় পড়ায় সচেতনতা করি পরিবেশ বাঁচানোর। আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন পঞ্চায়েত সদস্য।"

এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য সুনীতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'জঙ্গলে যেভাবে আগুন লাগছে, তাতে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে বন্যপ্রাণীদের। অনেক মানুষ বোঝে না। প্রতিনিয়ত আমরা সচেতনতা করছি তবে আরও সচেতনতা বাড়ানো দরকার। সেই জন্য জামাইষষ্ঠীর দিন বটগাছকে মা ষষ্ঠী রূপে পূজা করলাম। তারপরেই পথ চলতি মানুষদের প্রসাদ খাওয়ালাম। তাদের বার্তা দিলাম গাছ লাগানোর।' সুব্রত ঘোষ নামের এক বাইক চালক হলেন, 'আজকের উদ্যোগ অভাবনীয়। আমরাও এই কর্মযজ্ঞে সামিল হচ্ছি।'