কলকাতা : বারুইপুরে নাবালিকার ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় মধ্যরাতে নাটকীয় মোড়! এনকাউন্টারে মৃত্য়ু হল অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। বারুইপুরে যৌন নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে ক্লাস সিক্সের ছাত্রীকে । নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে এনকাউন্টারে মৃত্য়ু হয়েছে অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের।
শমীক ভট্টাচার্য যা বললেন ...
এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। কোনও অপরাধীকে আর ছেড়ে রাখা যাবে না। কোনও রাজনৈতিক নেতার আশীর্বাদে আর কেউ বাঁচতে পারবে না। এই ঘটনা সেটাই প্রমান করল। একই সঙ্গে সঙ্গে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে এই আবেদনও জানাচ্ছি, কামদুনি কাণ্ডে যে ভাবে রাজ্য প্রশাসন তদন্ত করেছিল, এবং মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে তোষণের জন্য আজকে কামদুনির নির্যাতিতা বিচার পাননি, ( অভিযুক্তরা ) বেকসুর খালাস পেয়ে গিয়েছিল কোর্ট থেকে , সেই ফাইল ওপেন করা হোক। '
দেবজিৎ সরকারের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার লেখেন, 'বারুইপুরে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যাকারী পিশাচ প্রভাস মণ্ডল মঙ্গলবার ভোররাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। এ এক ঐশ্বরিক বিচার!'
কী ঘটেছিল কাল রাতে ?
রাত ১২টা বেজে ১০, অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঠিক যেখান থেকে নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেখানে এসে পৌঁছন তদন্তকারীরা। পুনর্নির্মাণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য। কিন্তু তখন তো ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি, আর জল জমে ছিল চারিদিকে। সেই পথ দিয়ে যখন প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন এক পুলিশ কর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনতাই করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য় করে গুলি চালায়। পালানোর সময় পুলিশ প্রথমে তাকে ধাওয়া করে। ধরতে না পারলে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ । গুলিবিদ্ধ হয় সে। এরপর বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
কী বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ? যৌন নির্যাতনের পর, মাথায় আঘাত করে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং তারপরই জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বারুইপুরের নির্যাতিতার। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের ছত্রে-ছত্রে এরকমই ভয়াবহ নৃশংসতার উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
