কলকাতা : বিবাদী বাগে ফের তৃণমূলপন্থী বিএলওদের বিক্ষোভ। মৃত বিএলওদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ। SIR-নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগে এবার মুখ্যমন্ত্রীকে BLO ঐক্য মঞ্চের চিঠি।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, বারুইপুরে অভিষেকের র‍্যাম্প ওয়াকে ৩ 'মৃত' ভোটার, BLO-কে শোকজের নির্দেশ কমিশনের

Continues below advertisement

ভোটকর্মী-BLO ঐক্য মঞ্চ ওই চিঠিতে জানিয়েছে, 'মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি, পুরোটাই কুম্ভিরাশ্রু। SIR-এর কাজে নিযুক্ত BLO-দের মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ নিয়ে রিপোর্ট কোথায়? আপনি একদিকে চিঠি দিচ্ছেন জ্ঞানেশ কুমারকে, কিন্তু করছেন উল্টো। BLO-দের ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কোনও প্রস্তাবই এখনও পর্যন্ত দেয়নি রাজ্য', দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকেই চিঠি ভোটকর্মী-BLO ঐক্য মঞ্চের।

মূলত, SIR আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পঞ্চম চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে অভিযোগ তুলে তিনি জানিয়েছেন, 'যোগ্যতা প্রমাণের জন্য উপযুক্ত নথি জমা দিলেও, তার প্রাপ্তিস্বীকার করা হচ্ছে না। পরীক্ষার সময় এই সমস্ত নথি 'নট ফাউন্ড' বলে চিহ্নিত হচ্ছে। এরপর এই ভোটারদের নাম তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতেই গলদ আছে।এই পদ্ধতি যান্ত্রিক এবং এর মধ্যে মাথা খাটানোর কোনও ব্যাপার নেই।'

SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে বাকি এক মাস। কিন্তু তার আগে পঞ্চমে উঠেছে পত্রযুদ্ধ। এই নিয়ে SIR ইস্যুতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পাঁচবার চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, দেখা যাচ্ছে, SIR-এর শুনানির সময় ভোটাররা প্রয়োজনীয় নথি জমা দিচ্ছেন। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, নথি জমা দেওয়ার পর তার অনুমোদন হিসাবে রিসিপ্ট দেওয়া হচ্ছে না। ভেরিফিকেশনের সময় এই ডকুমেন্টগুলোকে 'নট ফাউন্ড' বা 'রেকর্ডে নট অ্যাভেলেবেল' বলে দেখানো হচ্ছে এবং এর প্রেক্ষিতে ভোটারদের নাম ভোটার রোল থেকে ডিলিট করে দেওয়া হচ্ছে।  লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা নিয়ে আগাগোড়াই আপত্তি করে আসছে তৃণমূল। বারবার এই নিয়ে সরব হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার জ্ঞানেশ কুমারকে দেওয়া চিঠিতে এই নিয়েও নির্দিষ্ট করে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষ SIR-এর প্রেক্ষিতে ডিজিটালাইজ ডেটাবেস না থাকলে, যেগুলি স্থানীয় ভাষায় ছিল, সেগুলিকে AI টুল ব্যবহার করে ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করা হচ্ছে।এই ট্রান্সলেশনের সময় ভোটারদের নাম, বয়স, লিঙ্গ এবং সম্পর্ক এবং অভিভাবকের নামের ক্ষেত্রে বড় ভুল হচ্ছে। এর ফলে প্রচুর ডেটা মিসম্যাচ হচ্ছে যা বৈধ ভোটারদেরকে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির ক্যাটেগরিতে ফেলে দিচ্ছে। এরই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠির শেষে লিখেছেন, আমি বিশ্বাস করি এই ইস্যুর ওপর অবিলম্বে আপনি নজর দেবেন শুধুমাত্র নাগরিকদের যন্ত্রণা, হেনস্থা শেষ করার জন্য নয়, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করার স্বার্থেও।