কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) শক্ত ঘাঁটি হিসাবেই পরিচিত ছিল বীরভূম। গত বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) বীরভূমের ১১ টি আসনের মধ্যে দুবরাজপুর বাদে, বাকি ১০টি কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিল ঘাসফুল। তবে সেই জেলাতেও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পরিবর্তনের সুর। ১১টির মধ্যে  পাঁচটি আসনে তৃণমূল জয়ী হলেও, ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি, হারের ধাক্কা সামলাতে হয় তৃণমূল কংগ্রেসকে। এরপরেই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। তাঁর ইঙ্গিত দলের অন্দরেই সমস্যা রয়েছে।

Continues below advertisement

কাজল শেখ এবিপি আনন্দ-কে জানান, 'বীরভূম জেলায় কোর কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল আগের নির্বাচন। ২০২৪-র লোকসভা নির্বাচনেও আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, পায়ে পায়ে মিলিয়ে কাজ করেছি। এই নির্বাচনে পাঁচটা আসনে আমরা জয়যুক্ত হয়েছি, আর ছয়টায় পরাজিত হয়েছি। কেন পরাজিত হয়েছি সেই নিয়ে আমি আলাদা মন্তব্য করব না। নিশ্চয়ই উচ্চ নেতৃত্ব এই নিয়ে আলোচনা করছে।'

Continues below advertisement

এরপরেই কাজল শেখ আরও বিস্ফোরক দাবি করেন। 'দলের মধ্যে গদ্দার ঢুকে আছে, সেইজন্যই পশ্চিমবাংলায় তৃণমূলের পরাজয়। দলের সঙ্গে যাঁরা গদ্দারি করেছে, তাঁদের চিহ্নিত করেছি, জানাবো রাজ্য নেতৃত্বকে। দল নিশ্চয়ই এই নিয়ে বিশ্লেষণ করছে', ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য কাজল শেখের। হাসনের তৃণমূল বিধায়কের আরও দাবি, 'বীরভূমে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব হারের নেপথ্যে জড়িত। কারও নাম নেব না, বীরভূম জেলায় হারের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জড়িত আছে।'

আরও পড়ুন:- 'ভাটপাড়া পুরসভায় উন্নয়নের কাজ আটকে গিয়েছে', বিস্ফোরক অর্জুন সিং, দুর্নীতির অভিযোগে FIR-এর হুঁশিয়ারি 

দলের পরাজয়ের পর দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন একাধিক তৃণমূল নেতা। বেহালা পশ্চিমের বিদায়ী বিধায়ক ও পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে যেমন বলতে শোনা যায়, 'নেতাদের ঔদ্ধত্য ও অহঙ্কার প্রকাশ পায়। তারা কথা শুনতে চায় না। তারা অ্যাভয়েড করার চেষ্টা করে।' প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, 'দলের বিপর্যয়ের পিছনে একজনই ব্যক্তি রয়েছে, দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।'

তৃণমূলে সংগঠন বলে কোনও জিনিস ছিল না, বলছেন নারায়ণগড়ের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট। কোনও সাংসদ বা বিধায়ক গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে ঢুকতে দেওয়া হত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম সরাসরি দায়ী করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বাংলার মানুষ মেনে নিতে পারেনি। উনি সাংসদ ও বিধায়কদের চাকর মনে করতেন। আমার মতে অভিষেক নয়, অভিশাপ।'