কলকাতা: ভাঙনের তৃণমূলে আরও ভাঙন। এবার দল ছাড়লেন বিশ্বজিৎ দেব। দলীয় নেতৃত্বকে নিশানা করে তৃণমূল ছাড়লেন বিশ্বজিৎ দেব। বললেন, "দুর্নীতি থেকে সই জালিয়াতি, আর দলে থাকা উচিত নয়। তাই তৃণমূলের রাজ্য কমিটি, প্রাথমিক পদ থেকে ইস্তফা।" সুব্রত বক্সীকে চিঠি দিয়ে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছেড়ে দিলেন। তবে দল ছাড়ার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ। এবিপি আনন্দেই মুখ খুলেছিলেন তিনি। (Biswajit Deb)

Continues below advertisement

বুধবারই বিধানসভায় নিজেদের 'আসল' তৃণমূল বলে দাবি করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। আর সেই আবহেই তৃণমূল ছাড়লেন বিশ্বজিৎ। দল ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন। মিজ়োরামের অ্যাডভোকেট জেনারেল থাকাকালীন জোড়াফুল শিবিরে যোগ দেন। এবার সম্পর্ক ছিন্ন করলেন। (TMC News)

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবিপি আনন্দে মুখ খোলেন বিশ্বজিৎ। সেই সময় একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। বিভিন্ন বিষয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। বিশেষ করে লাগামছাড়া দুর্নীতি সরব হয়েছিলেন তিনি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সায় ছাড়া এই পরিমাণ দুর্নীতি হতে পারে না বলে মত ছিল তাঁর। তাঁর বক্তব্য ছিল, "লাগামছাড়া দুর্নীতি, যেটা গত পাঁচ বছর ধরে হয়ে আসছে...আমি মনে করি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নজর ছাড়া এই দুর্নীতি হতে পারে না।"

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: সব কমিটি, শাখা সংগঠন ভেঙে দিলেন মমতা, ভোটের একমাসের মধ্যেই চুরমার তৃণমূল, নতুন করে দলগঠনের ভাবনা?

তৃণমূলের অন্দরে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, তাও তুলে ধরেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, "দু'টো গোষ্ঠী হয়ে গিয়েছিল, একটা মমতাদিকে ঘিরে, অন্যটি অভিষেককে ঘিরে। এই গোষ্ঠীর বাইরে তৃণমূলের যারা সাধারণ কর্মী, নেতা, এমনকি বিধায়ক-সাংসদরাও তাঁদের কাছে ঘেঁষতে পারতেন না। কিছু বলতে হলে আইপ্যাকের মাধ্যমে বলতে হতো। একটি রাজনৈতিক দলের থেকে এটা আশা করা যায় না। একটি রাজনৈতিক দল...অথচ বাণিজ্যিক কোনও সংস্থার মাধ্যমে, কর্পোরেট টিমের মাধ্যমে  ডিল করতে হবে, কর্মীদের ওই সংস্থার সঙ্গে ডিল করতে হবে, নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ  থাকবে না, এটা হতে পারে না।"

আরও পড়ুন: এবার তৃণমূল ছাড়লেন বিশ্বজিৎ দেব, ভাঙনের জোড়াফুল শিবিরে আরও ভাঙন

এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্যও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে দায়ী করেছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁর বক্তব্য ছিল, "এই বিপর্য়ের দায় নিশ্চয়ই মমতাদির এবং নিশ্চয়ই অভিষেকের। কারণ তাদের দু'জনের উপর দলটা চলত। তাদের দু'জনের বাইরে দল ছিল না। মাঝখানে ছিল আইপ্যাক। আর আজ দলের এই সর্বনাশের মূল হচ্ছে আইপ্যাক। আর এই আইপ্যাকের মাধ্যমেই…আইপ্যাক টাকা তুলত। কর্মীদের থেকে। যারা বলত, মনোনয়ন দেওয়ার দরকার আছে, বলত, 'বায়োডেটা দাও, টাকা দাও।"

একসময় কংগ্রেস এবং সিপিএম-কে যে ভাষায় কটাক্ষ করত জোড়াফুল শিবির, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও সেই ভাষা প্রয়োগ করেন বিশ্বজিৎ। তৃণমূল টিকে থাকতে পারবে না বলে জানিয়েছিলেন। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমার যা ধারণা, কিছু চলে যাবে কংগ্রেসে, কিছু লোক যাবে বিজেপি-তে, কিছু সিপিএম-এ। সাইন বোর্ড হয়ে থাকবে। আমরা আগে বলতাম না, কংগ্রেস সাইন বোর্ড হয়ে গিয়েছে, সিপিএম হয়ে গিয়েছে! তৃণমূলটাও সাইনবোর্ড হয়ে যাবে। একদম খান খান হয়ে যাবে। খুব শীঘ্রই দেখবেন। হয়েই তো গিয়েছে। বাকিটা সময়ের অপেক্ষা। জাস্ট সময়ের অপেক্ষা।"