শিবাশিস মৌলিক, কলকাতা : বিহার-জয়ের পরেই বঙ্গ-জয়ের কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন একাধিক বিজেপি নেতা। সেটা যে তাঁদের কথার কথা ছিল না, সাম্প্রতিক পদক্ষেপই তার প্রমাণ। কারণ, ২০২৬-এ বঙ্গ-জয়ের লক্ষ্যে নতুন টিম তৈরি করে ফেলল বিজেপি। ভিনরাজ্যের নেতাদের সামনে রেখেই বাংলায় বিজেপির রণকৌশল তৈরি হচ্ছে। 

Continues below advertisement

গত দু'দিন সভা করে গিয়েছেন সুনীল বনসল। বঙ্গ-জয়ের লক্ষ্য কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বপ্রপ্ত বিজেপি নেতা সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব ও বিপ্লব দেবরা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আসছেন এবং বিধাননগরে রাজ্য বিজেপি দফতরে বৈঠক করছেন। রাজ্য নেতাদের তরফে উপস্থিত থাকছেন শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও লকেট চট্টোপাধ্যায়রা। বৈঠকে রাজ্য নেতাদের জন্য বেশ কিছু গাইড-লাইন করে দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। অন্যদিকে, এই রাজ্য নেতাদের বিশেষভাবে গ্রুমিং, জেলায় জেলায় তাঁদের গাইড করার জন্য বঙ্গে ঘাঁটি গাড়তে চলেছেন বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি নেতারা। কেন্দ্রীয় নেতারা- নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডারা যেমন সভা-মিছিল করতে আসবেন। তার পাশাপাশি ভিন রাজ্যের মন্ত্রীদের, যাঁরা অন্ধ্রপ্রদেশ-দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তীসগঢ়ে এখন মন্ত্রী হিসাবে রয়েছেন, তাঁরা আসতে চলেছেন ডিসেম্বর থেকেই। তাঁরা কয়েক মাস এরাজ্যে ঘাঁটি গেড়ে বিভিন্ন জেলায় থাকবেন, এমনটাই জানা যাচ্ছে।

ভিন রাজ্যের যেসব নেতা দায়িত্বে আসছেন-

Continues below advertisement

রাঢ়বঙ্গের দায়িত্বে আসছেন ছত্তীসগঢ়ের পবন সাই, সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রী ধনসিংহ রাওয়াত। হাওড়া-হুগলিতে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে দিল্লির নেতা পবন রানাকে। মেদিনীপুরের দায়িত্ব সামলাবেন উত্তরপ্রদেশের নেতা জে পি এস রাঠৌড়। কলকাতা, দঃ ২৪ পরগনার দায়িত্বে আসবেন হিমাচলপ্রদেশের এম সিদ্ধার্থন, সঙ্গে কর্নাটকের সি টি রবি। নবদ্বীপ, উঃ ২৪ পরগনার দায়িত্বে অন্ধ্রপ্রদেশের এন মধুকর, সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের সুরেশ রানা। এছাড়াও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৈলাস চৌধরি, অনন্তনারায়ণ মিশ্র ও কর্নাটকের অরুণ বিন্নাডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেই রাজ্য বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথাগত রায় বলেছিলেন, 'ভিনরাজ্যের নেতাদের দিয়ে চলবে না, সাধারণভাবে এটা ঠিক। হিন্দি বলয়ের মানুষের ভাবনাচিন্তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ভাবনা অন্যরকম। হিন্দি বলয়ের মানুষ যেভাবে জাত বিচার করেন, পশ্চিমবঙ্গে তা হয় না। পশ্চিমবঙ্গে মানুষ জাতপাত দেখে ভোট দেয় না। পশ্চিমবঙ্গে কৈলাস বিজয়বর্গীয়র মতো নেতাকে আনা ভুল হয়েছিল। ২০২১-এ আমাদের ক্ষমতায় আসার কথা ছিল, আমরা ভুলের মাশুল দিয়েছি।'