সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: শুধু বিরোধী দলের বিধায়করাই নন, বিধানসভায় এবার থেকে নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে ঢুকতে পারবেন না শাসক দলের বিধায়করাও। এই মর্মে পয়লা সেপ্টেম্বর থেকেই চালু হয়েছে নতুন নিয়ম। কিন্তু নিজের নিরাপত্তা নিরাপত্তা আধিকারিকদের নিয়ে কেন বিধানসভায় আসবেন মুখ্যমন্ত্রী?
এই প্রশ্ন তুলে এবার মামলা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিচারপতি অমৃতা সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী। বিধানসভায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রবেশের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এদিন দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে বিধানসভার অধ্যক্ষের আইনজীবীকে বিচারপতি সিনহা প্রশ্ন করেন, 'বিধানসভায় নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বিজ্ঞপ্তি মানতে সমস্যা কোথায়?'
বিচারপতি অমৃতা সিনহা প্রশ্ন করেন, 'তাহলে কি সেই বিজ্ঞপ্তি মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রযোজ্য নয়? স্পিকারের দেওয়া নোটিস, সেটা মানতে সমস্যা কোথায়?' হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে বিধানসভার অধ্যক্ষের আইনজীবীর সওয়াল, 'বিধানসভার স্পিকার, মুখ্যমন্ত্রী-এগুলি সাংবিধানিক পদ। বিরোধী দলনেতা সাংবিধানিক পদ নয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা'।
এরপর বিচারপতি বলেন, 'বিধানসভায় এমনিতেই নিরাপত্তা আছে, ভিতরে কেন আলাদা সুরক্ষা? মুখ্যমন্ত্রী কি বিধায়ক নন? তাহলে কেন তার ক্ষেত্রে নির্দেশ অমান্য?'। এদিকে আজ হলফনামা দিয়ে ব্যাখ্যা জানানোর দাবি বিরোধী দলনেতার আইনজীবীর। শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বললেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, 'বিরোধী দলনেতা কি কোনওভাবে নিরাপত্তার অভাব মনে করছেন? যদি এমন হয়, তাহলে আদালতকে জানান'।
বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগ ছিল, বিধানসভায় নিরাপত্তারক্ষী প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই। সেই অনুযায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১ সেপ্টেম্বর নির্দেশিকাও জারি করেন। কিন্তু তাতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া আর কোনও মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষী বিধানসভায় ঢুকতে পারবেন না। শুভেন্দুর মতে, স্পিকার মুখ্যমন্ত্রীর রক্ষীদের বিধানসভায় প্রবেশের অনুমতি দিয়ে আদালত অবমাননা করেছেন।