ঝিলম করঞ্জাই, সন্দীপ সরকার ও অনির্বাণ বিশ্বাস, কলকাতা: পাকস্থলীতে যাওয়ার কথা থাকলেও সে নাক-মুখ দিয়ে সোজা পৌঁছে যায় মাথার মধ্যে। দিন কয়েকের মধ্যেই কুরে কুরে খেতে শুরু করে মস্তিষ্কের অন্দর। ধ্বংস করে দেয় স্নায়ুতন্ত্রকে। চলতি বছরেই কেরলে 'ব্রেন ইটিং অ্যামিবার' আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে একাধিক শিশু সহ ১৯ জনের! করোনা পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে মৃতের সংখ্যা ১৬। 

আপনি কি জল বা মাটি নিয়ে বেশি কাজ করেন? পুকুরে বা নদীতে নিয়মিত স্নান করেন? তাহলে সতর্ক থাকুন। কারণ, জল বা মাটি থেকে নাক দিয়ে সোজা আপনার মাথায় পৌঁছে যেতে পারে 'ব্রেন ইটিং অ্যামিবা' বা 'ঘিলু খেকো অ্যামিবা'! যে এক কোষী অ্যামিবা কুরে কুরে খেয়ে ফেলে মস্তিষ্কের অন্দর। ধ্বংস করে দেয় স্নায়ুতন্ত্রকে।

কেরলে চলতি বছরে এই রোগে মৃত্যু হয়েছে একাধিক শিশু সহ ১৯ জনের। ইতিমধ্যে মারণ অ্যামিবা হানা দিয়েছে বাংলাতেও। করোনা পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে এই রোগে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কেরলে সংক্রমিত হচ্ছে যে রোগ, তার নাম Primary Amoebic Meningoencephalitis বা PAM। আর বাংলায় ছড়াচ্ছে Granulomatous Amoebic Encephalitis বা GAE। 

 কী কারণে হয় এই রোগ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগের জন্য দায়ী এককোষী প্রাণী Naegleria Fowleri Amoeba। কখনও কখনও অ্যামিবার আর এক প্রজাতি, অ্যাকান্থামিবা থেকেও এই রোগ ছড়ায়। বিরল এই রোগে আক্রান্ত হলে কী কী উপসর্গ দেখা দেয়? জ্বর, সর্দি-কাশি, খিঁচুনি কিংবা অসংলগ্ন আচরণ। উপসর্গ সাধারণ ব্যাকটিরিয়াল মেনিনজাইটিসের মতো হয় বলে অনেক সময় রোগ ধরা পড়তে বেশ কিছুটা সময় লাগে। 

পরিসংখ্যান বলছে, সারা বিশ্বে গত কয়েক বছরে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০০। কিন্তু গত দেড় বছরে শুধু কেরলেই আক্রান্ত হয়েছেন ১২০ জন। যার মধ্যে, চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯। মৃত ১৯ জনের মধ্যে যেমন ৩ মাসের শিশু আছে, তেমনি রয়েছেন ৫২ বছরের প্রৌঢ়। 

চিকিৎসকরা বলছেন, মাটিতে কিংবা উষ্ণ ও মিষ্টি জলে এই অ্যামিবা বাস করে। অপরিষ্কার জল, নোংরা পুকুর কিংবা দীর্ঘ দিন ধরে যে সুইমিং পুলের জলে শোধন করা হয়নি, সেখানে এই অ্যামিবা জন্মাতে পারে। সেই জলে স্নান করলে বা সাঁতার কাটলে নাক এবং মুখ দিয়ে এই অ্যামিবা মানুষের শরীরে ঢুকে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই সে মস্তিষ্কের কোষ খেতে শুরু করে।