কলকাতা: 'এবার প্রথম বুলেট ট্রেন শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাবে', কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর জানালেন রেলমন্ত্রী। 'ভবিষ্যতে এই প্রজেক্ট গুয়াহাটি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। পশ্চিমবাংলা প্রায় ১২টি নতুন ট্রেন পেয়েছে', জানালেন অশ্বিনী বৈষ্ণব।
তিনি বলেন, 'গত ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রোর ২৭ কিলোমিটার রেলপথ, ২০১৪ সালের পর ১১ বছরে কলকাতা মেট্রোর ৪৫ কিলোমিটার লাইন তৈরি হয়েছে।' রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, 'পশ্চিমবঙ্গের জন্য শুভেচ্ছা, যে আপনাদের রাজ্যে এখানে প্রথম বুলেট আসবে, শিলিগুড়ির জন্য। বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি ভায়া পাটনা, এই বুলেট ট্রেন শিলিগুড়ি আসবে। '
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ভাষণের সংখ্য়ার নিরিখে প্রণব মুখোপাধ্য়ায়কে টপকে গেলেন নির্মলা সীতারমণ। কিন্তু, প্রণব মুখোপাধ্য়ায়ের রাজ্য় পশ্চিমবঙ্গের মন পড়তে কি সফল হলেন তাঁর উত্তরসূরি? সামনেই এরাজ্য়ে বিধানসভা ভোট। যেখানে জিততে মরিয়া মোদি সরকার। প্রশ্ন ছিল পশ্চিমবঙ্গবাসীর মন জয়ে কি বাজেটে ঢালাও বরাদ্দ করবে তারা? আদতে পশ্চিমবঙ্গ পেল বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডর। ডানকুনি-সুরাট কার্গো ফ্রেট করিডর আর দুর্গাপুরে শিল্প করিডর।বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ি বলেন, এই হাই স্পিড করিডর, ওটার মধ্যে যে ৭টা দিয়েছে, তাতে বারাণসী-শিলিগুড়ি রয়েছে। আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার কী তৈরি ওই উচ্চগতির রেল করিডরের পুরো সুবিধা করার জন্য? না কি ওরা ঘুমিয়ে আছে? দুর্গাপুর তো বানিয়েছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। তারপর থেকে ৩৪ বছর বাম শাসন ১৫ বছরে তৃণমূল শাসনে আর কিছু দেখিনি।
এছাড়া টি-বোর্ডের জন্য় ৩৮০ কোটি টাকা, কলকাতা বন্দরের জন্য় ১৫০ কোটি টাকা, কলকাতার ন্য়াশনাল ইন্সটিটিউট অফ হোমিওপ্য়াথির জন্য় ৯২ কোটি টাকা, সত্য়জিৎ রায় ফিল্ম অ্য়ান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অর্থাৎ SRFTI-এর জন্য় ৯০ কোটি টাকা, বেঙ্গল কেমিক্য়ালের জন্য় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই বাজেটে। এছাড়া এবারের বাজেট থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি বলতে , মেট্রো রেলের অরেঞ্জ লাইনের জন্য় ৭০৫ কোটি টাকা, পার্পল লাইনের জন্য় ৯০৬ কোটি টাকা, আর গ্রিন লাইনের জন্য় ৫২৯ কোটি টাকা। রাজ্য় বিজেপি সহ সভাপতি জগন্নাথ চট্টোপাধ্য়ায় বলেন, '১০ বছরে এমন কিছু প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ পেল, যা আগে পায়নি। যাঁরা মনে করছেন, বাংলা কী পেল, এতগুলি প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে। এর সঙ্গে রেল বাজেটে আমরা যদি দেখি, একগুচ্ছ নতুন ট্রেন, নতুন লাইন, ডাবলিং বাংলা তার নিজের সুবিধা, বাংলার ছেলেরা, বিশেষ করে IT সেক্টরের ছেলেরা নিজেদের সুবিধা পেতে থাকবে।'যদিও, তৃণমূল থেকে শুরু করে কংগ্রেস, কেউই এই দাবি মানতে চাইছে না। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন,আশা করেছিলাম অন্তত চার-পাঁচবার বাংলার নামটা শুনব। B-টা শুনব। সেটাও শুনতে পাইনি। ভোট সামনে তাতেও একটুও কিছু দিল না। বাংলাকে বঞ্চিত করতেই থাকছে। আগামীদিনেও করবে।
